পশ্চিম সিকিম ভ্রমণ কোয়েলীর সাথে পর্ব -৩

পশ্চিম সিকিম ভ্রমণ কোয়েলীর সাথে
পর্ব -৩

পরের দিন ঘুম ভাঙতেই দেখি সারা আকাশ জুড়ে কুয়াশা ,মেঘলা দিন ।হয়তো বৃষ্টি আসতে পারে ।আজ আর কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা নেই । গড়িমসি করে উঠতে দেরি হল ।ঘরেই আছে চায়ের ব্যবস্থা । ঘরেই চা ,কফি বানিয়ে খেতে খেতে একবার আকাশ দেখি আর ভাবছি বৃষ্টি পড়বে কি না ।


গতরাতেই ঠিক করা হয়েছিল রাবডেনটসে রুইন্স যাব । সিকিমের প্রাচীন দ্বিতীয়
রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ আছে সেখানে ।
বেশ দেরি হল বেরোতে ।ততক্ষণে আকাশ অনেকটাই পরিস্কার হয়ে এসেছে । স্নান সেরে রেডি হয়ে ডাইনিং হলে বসে জলখাবার খেয়ে যখন যাত্রা শুরু হল তখন ঘড়িতে বাজে এগারোটা ।
পথের ধারে ধারে ফুলের মেলা । একরকম লম্বা গাছ যা দিয়ে ফুলঝাড়ু তৈরি হয় ।কোলাহল ,দূষণ বর্জিত পরিচ্ছন্ন পথ , চেস্টনাট , ওক , ফার ,বাঁশ ইত্যাদি গাছ ,নিচে গভীর খাদ পেরিয়ে গাড়ি চলেছে । পথের ধারে কয়েক জায়গায় কমলালেবু বিক্রি হচ্ছিল ।
নির্জন পাহাড়ের পথ ধরে এক বড় গেটের সামনে এসে দাঁড়াল গাড়ি।এবার ভেতরে যাবার টিকিট কেটে প্রবেশ করলাম । সারা সিকিম রাজ্যেই প্লাস্টিক প্যাকেট ,বোতল ছুঁড়ে ফেলা নিষিদ্ধ ।


ভেতরে ডানদিকে একটা রেস্টুরেন্ট । চা ,মোমো খাবার জন্য সামনে চেয়ার টেবিল সাজানো । সেটা ছাড়িয়ে পথ চলে গেছে ঘন পাইন বনের ভিতর । সেই পথ ধরে হাঁটতে শুরু করলাম । যেতে হবে অনেকটা পথ ।
পথের ধারে ধারে ফুলের মেলা । একরকম লম্বা গাছ যা দিয়ে ফুলঝাড়ু তৈরি হয় ।
এখানে নির্জনে প্রকৃতির সাথে কথা বলা যায় একান্তে ,শোনা যায় পাখির ডাক । দীর্ঘ পাইন বনের ভিতর দিয়ে যে পথ চলে গিয়েছে ,আলো প্রবেশ করে না । পায়ে হাঁটা শুরু হল । প্রাচীন পাইন গাছের গায়ে সবুজ শ্যাওলা জমে আছে । বেশ শীত করছিল । কিছুটা পথ গেলে বাঁদিকে বার্ড পার্ক । বিশাল জাল দিয়ে ঘেরা ,সেখানে দেখা মেলে বিরল প্রজাতির পাখিদের ।
এই পাহাড়ের পথ ধরে সাতশো মিটার রাস্তা ট্রেক করে হিলটপে পৌঁছতে হয়।


ওপরে বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে সিকিমের দ্বিতীয় রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ ।এখানে ইতিহাস কথা বলে ।স্তম্ভ ,প্রাচীর সুন্দরভাবে সংরক্ষিত আছে যা প্রায় তিনশো সাল আগে গোর্খা বাহিনীর দ্বারা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল ।
নিচে নেমে দেখি সিকিমের কিছু মানুষ কাঠ জ্বালিয়ে হাত সেঁকছে ।আমি কাছে যেতেই বসতে বলল । সেখানে বসে হাত মেলে দিলাম । শরীর গরম হলে আরাম পেলাম ।
ফেরার পথে দেখি পাহাড়ের গায়ে ধোঁয়া উঠছে ।ঠাণ্ডায় আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণ হতে চায় মানুষ । বরষায় পেলিং এ ধ্বস নামে ।
কাছাকাছি আছে আরও কিছু জায়গা ছিল , পেমিয়াংশি মনাস্ত্রি , কাঞ্চনজঙ্ঘা ফলস , কমলালেবুর বাগান , লেক ইত্যাদি কিন্তু এই যাত্রায় আর দেখা সম্ভব হল না ।

পরদিন সকালে আবার রোদ উঠল ।দেখা পেলাম কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরুপ দৃশ্যের ।
এবার ফিরতে হবে ঘরে । মাত্র এই তিনদিনের সফরে নিয়ে গেলাম অনেকটা জীবনীশক্তি । পাহাড় ,নদী ,অরণ্য ,ঝর্ণা , পাখি ,অর্কিড ,পাহাড়িয়া ফুল , মনেস্ত্রি ,প্যাগোডা ,মন্দির সব মিলিয়ে সিকিম আয়তনে ছোট হলেও এক স্বর্গ রাজ্য , ঈশ্বরের আপন দেশ । এই ভ্রমণ জীবনের এক সেরা সঞ্চয় হয়ে থাকল ।

গাড়ি ভাড়া ৪০০০ টাকা মত লাগবে। কালুকে মন্দারিন ভিলেজ রিসোর্ট — ঘর প্রতি ২১০০ টাকা । অন্যসময় ভাড়া বেশি পড়বে । ফোন নম্বর – ৯৮৩০১-৫২১৬৯
কাছেই আছে গ্রিন হিল রিসোর্ট ।এ ছাড়া হোমট্রে আছে ।
সাথে কিছু শুকনো খাবার রাখতে হবে । প্রয়োজনীয় ওষুধ পত্র আর পর্যাপ্ত গরম জামা । এখানে গাছের ফুল ছেঁড়া অপরাধ । চাষ আবাদে কোন সার প্রয়োগ করা হয় না । সার দিলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *