ইমলির গোয়েন্দাগিরি

তনুজা চক্রবর্তী

হাননান আহসান

পুনশ্চ, দাম ১৯৫ টাকা।

লেখকের প্রথম গল্পের বই। ছোটোদের জন্য। শিশু মনস্তত্ত্বের খুঁটিনাটি ১২টি গল্পে ঝরঝরে ভাষায় উপস্থাপন করেছেন। দৈনন্দিন জীবনের টুকরো টুকরো ঘটনাগুলি সাজিয়ে পরিপূর্ণ গল্পের ইমারত তৈরি করা মুন্সীয়ানার দরকার। লেখক তার ভাবনা ও প্রকরণে সসম্মানে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। গল্পের পরতেপরতে ন্যায়- অন্যায় বোধ ও বিশুদ্ধ ভালোবাসার অভিব্যক্তি ধরা পড়েছে। ছোটোদের খুব আনন্দ দেবে এই গল্পগুলি। বড়োরাও গোগ্রাসে গিলবে। ঝকঝকে ছাপা ও শোভনসুন্দর বইটি হাতে নিলেই মন ভরে যাবে।

আবছায়া ****** গীতালি ঘোষ

দ্বিতীয় পর্ব

আমি অন্য ঘর গুলো দেখতে গেলাম। আমাকে শৌণক স্যারকে পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট দিতে হবে। এখানে দেখছি আরেকটা বেডরুম আছে। সিঙ্গেল বেডে সুদৃশ্য  বেডকভার পাতা।  একটা ছোট টেবিল আছে যেখানে একটা অ্যালবাম দেখলাম। সেটা আমি তুলে নিলাম আর একটা জিনিস পেলাম আমি ড্রয়ার খুলে। সেটা একটা অসমাপ্ত চিঠির শুরু–” তোমাকে কিছু বলার ছিল কিন্তু বলার সুযোগ পাচ্ছিনা”— তারপর আর লেখা হয়নি। বেশ গোটা গোটা অক্ষরে লেখা। বুঝলাম লেখক বা লেখিকা এই চিঠিটা শেষ করেননি। সেটাও আমি তুলে নিলাম। পাশেই রান্নাঘর, একটু ছোট কিন্তু মোটামুটি সাজানো গোছানো। আমি কিচেনে ঢুকে দেখি একটা বাটিতে কিছু খাবার রয়েছে,  ভালো করে দেখে বুঝলাম আধ খাওয়া নুডলস। কিন্তু পাশেই একটা বড় ধারালো পিন পড়ে রয়েছে। ওটাও আমি তুলে নিলাম। ছোট্ট খাবার ঘরে ফ্রিজ, ছোট কাঠের টেবিল– সেসব মোটামুটি বিন্যস্তই  রয়েছে।

    পাশে একটা গ্যারেজ। পুলিশ বোধহয় ঢুকেছিল। ক্রন্দনরত স্বামীটিকে নিয়ে গেছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। আমি সমবেত জনতার সঙ্গে কিছু  কথা বলার উদ্দেশ্যে এগোলাম। একজন ভদ্রমহিলা এগিয়ে এলেন নিজের থেকেই। এসে কথা বলতে শুরু করলেন
— ম্যাডাম আমি কি একটু কথা বলতে পারি?
— নিশ্চয়ই, বলুন।
— আমি সুধা, মানে ভিক্টিমের বন্ধু। এই মৃত্যুটা কিন্তু স্বাভাবিক নয়। ওকে খুন করা হয়েছে!
— আপনি কি করে জানলেন?
— আমি ওদের ভালো করেই চিনি। আমার নাম শান্তা সেন। আমি ওই দুটো বাড়ি পরেই থাকি। আমরা খুবই বন্ধু। সুধার হাজবেন্ড ঋভুরসঙ্গেও আমার ভালো জানাশোনা আছে। এটা কিছুতেই স্বাভাবিক মৃত্যু নয়।-

— আপনি কিসের ভিত্তিতে এটাকে খুনের ঘটনা বলছেন? শান্তা একটু দম নিয়ে চারপাশে তাকিয়ে একটু নিচু গলায় বলল,
— অনেক কিছু বলার আছে আমার। আপনি আমার বাড়িতে আসতে পারবেন?
আমার তো এখন আমার বসকে রিপোর্ট দিতে হবে তাই ওনাকে বললাম যে আমি পরে আসবো।

   বাকি জনতা ধীরে ধীরে সরতে শুরু করেছে। আমি বাড়িওয়ালার কাছে গিয়ে কিছুক্ষণ কথা বলে বেরিয়ে গেলাম। শৌণককে সবকিছুই বললাম, আর দুজনে অনেকক্ষণ ধরে কেসটা সম্পর্কে  আলোচনা করলাম। দুজনেই এ ব‍্যাপারে একমত হলাম যে এটা খুনেরই ব্যাপার!  কিন্তু সন্দেহজনকের তালিকায় কে কে থাকতে পারে, সেটাই এখনো  বোঝা যাচ্ছে না।

    পুলিশ দপ্তরে কথা বলে শৌণক আর আমি আবার স্পটে গেলাম। প্রথমেই গেলাম বাড়িওয়ালা শ্যামল বাবুর বাড়িতে। প্রাথমিকভাবে সকলেই বললেন ওই দম্পতি খুবই নির্বিরোধী,  হাসিখুশি সহজ-সরল দাম্পত্য জীবনই সকলে দেখেছে। দুজনের মধ্যে বেশ ভাব ভালোবাসা ছিল বলেই তিনি মনে করেন। কথাবার্তার মধ্যে হঠাৎ করে  শ্যামল বাবুর ১০-১২ বছরের ছেলে হঠাৎ বলে উঠলো,  –
— কাল রাতে চিৎকারটা বল।
শ্যামল বাবুর স্ত্রী তাড়াতাড়ি ওকে সরিয়ে নিয়ে গেলেন ভিতরে।  শৌণক এবার জিজ্ঞেস করল,
— চিৎকারের কথা কি বলছিল ও?
শ্যামল বাবু একটু  ইতস্তত করে বললেন,
—- না, কাল রাতের দিকে দুজনের মধ্যে একটু কথা কাটাকাটি হচ্ছিল….তো স্বামী স্ত্রীর মধ্যে এরকম তো হতেই পারে, মনে হয় তেমন কিছু নয়।

   আমরা দেখলাম, শ‍্যামলবাবু এই ব‍্যাপারে খুব একটা জড়াতে চাইছেন না। আর বিশেষ প্রশ্ন না করে এবার  আমরা শান্তা সেনের বাড়ি গেলাম। তার কাছ থেকে বরং অনেক নতুন খবর পেলাম। শান্তা এবং সুধা চ্যাটার্জি খুবই বন্ধু। দুজনে প্রায়ই এখানে ওখানে ঘোরেন, শপিং করেন, সিনেমা দেখেন।  কখনো কখনো কারোর বাড়িতেও আড্ডা হয়। সুধার স্বামী ঋভুও কখনো কখনো আড্ডায় শামিল হয়। সঙ্গে  শান্তার স্বামী প্রবালও থাকে। মোটের ওপর ওরা ফ‍্যামিলিগত ভাবেই খুব বন্ধু। আর একটা কথাও জানা গেল শান্তার কাছ থেকে। সুধার এখন পর্যন্ত বেশ অনেকবার মিসক‍্যারেজ হয়েছে। তার জন‍্য ডাক্তার  বারবার বলেছিলেন, বাচ্চার জন্য আর চেষ্টা যেন ওরা না করে। তবে সুধার জীবন সংশয় হতে পারে! দরকার হলে দত্তক নিতে। ডাক্তারের এই কথা শুনে ঋভু কাউকে না বলে নিজে ভ‍্যাসেকটমি করে আসে। সুধা জানার পরে দুজনের মধ্যে ঝগড়াও হয়। এই খবরটা আমাদের কাছে খুবই চমকপ্রদ। এটা এই খুনের কেসে একটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট।

ধারাবাহিক উপন্যাস

#ইচ্ছেপূরণ

 পর্ব--১

বিথীকা সাতদিন ধরে শুধু ক্রমাগত ভেবেছে আর ভেবেছে। এই সাতদিনের প্রতিটি মুহূর্তই তার ভাবনাটা সিরিয়াস ছিল।দুমাস পিরিয়ড পিছিয়ে যাওয়ার পরেও তার মনে হয়েছিল কোনো কারণে বন্ধ হয়েছে।এর আগেও তার পিরিয়ডের গন্ডগোল হয়েছিল।প্রায় আড়াই মাস বন্ধের পর নরম্যাল হয়েছিল।কিন্তু তখন সে নিশ্চিত ছিল এবং মাকে বলেওছিল।মার কথামতো ডাক্তার দেখানো ঠিক করতেই পিরিয়ড হয়ে গেল।

এবারে পরপর দুমাস পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও তিনমাসের ডেট পিছিয়ে যাওয়ার পিছনে যে কারণটা সে আশঙ্কা করছে সেটা সত্যি হলে পরিবারে বিরাট ঝড় উঠবে।তার বাবা মা দুই দাদা কেউ তাকে ক্ষমা করবে না।

তার বাবা অরুণাভ মজুমদার কড়া প্রকৃতির মানুষ হলেও দুই ছেলে আর একমাত্র মেয়েকে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে মানুষ করেছেন। বিথীর বড়দা বিতান কলেজে অধ্যাপনা করে।সে তার বন্ধুর বোন শ্রাবণীকে ভালোবেসে বিয়ে করেছে। শ্রাবণী পেশায় প্রাইমারি স্কুলের টিচার।বিয়ের ব্যাপারেও অরুণাভ ছেলের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।অনুষ্ঠান করে ধুমধাম করে বিয়ে দিয়েছেন। ছোড়দা বিলু মানে বিপ্লব সদ্য সরকারি চাকরিতে জয়েন করেছে।তারা তিন ভাই বোনই আগাগোড়া নামী ইংলিশ মিডিয়াম থেকে লেখাপড়া করেছে।বিথী ইংরাজি অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।গম্ভীর প্রকৃতির স্বল্পবাক বাবার আদুরে মেয়ে।একমাত্র মেয়ের প্রতি অরুনাভ একটু বেশিমাত্রায় দুর্বল।বাবার এই বেশি আদর প্রশ্রয় মা অনুরাধার একদম পছন্দ নয়।অরুণাভ পেশায় স্কুল টিচার। উত্তরাধিকার সুত্রে পারিবারিক অবস্থাও বেশ স্বচ্ছল। তার অবসর নিতে এখনও দু বছর বাকি।

বাবার আদর নতুন বৌদির ভালোবাসায়, মাঝে মাঝে মায়ের দাঁত খিঁচুনি আর কলেজের বন্ধু বান্ধবীদের নিয়ে বিথীর জীবন ভালোই কাটছিল।বিথীর পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি লম্বা দীঘল চেহারা আর মারকাটারি ফিগার ডাকসাইটে সুন্দরীদের হার মানায়।কিন্তু গায়ের রঙ বাদামি ঘেঁষা বলে টকটকে ফর্সা রঙের প্রতি তার মনে একটা দুর্বলতা আছে।বাবা বলে গায়ের রঙটা আর এক পোঁচ ফর্সা হলে মেয়েটা আমার ডানাকাটা সুন্দরী হত।

মাধ্যমিক পরীক্ষার পর থেকেই সে অসংখ্য রূপমুগ্ধ ছেলের মুগ্ধতা দেখেই বড় হয়েছে।এখনও পর্যন্ত কোনো ছেলে তাকে সেভাবে আকর্ষণ করতে পারে নি।কলেজে দু তিনজন লেকচারারের চোখেও সে মুগ্ধতা লক্ষ্য করেছে।তার দিক থেকে সামান্য সারা পেলেই তারা এগিয়ে আসত।এদের মধ্যে কাউকে যে কখনও ভালো লাগেনি এমনটাও নয়।কিন্তু ওই ভালোলাগাটুকুতেই শেষ।ভালোবাসা হলে প্রথম দেখাতেই একটা তীব্র আকর্ষণ থাকত বলেই তার ধারণা। সেই আকর্ষণ আর মুগ্ধতা থেকেই তো ভালোবাসার জন্ম হয়।তার এ পর্যন্ত সেরকম আকর্ষণ কোনো পুরুষের মধ্যে এখনও আসেনি। কলেজে তার বেশিরভাগ বান্ধবীর স্টেডি বয় ফ্রেন্ড আছে।হয়তো তাদের এই মেলামেশা ভবিষ্যতে বিয়ে পর্যন্ত গড়াতে নাও পারে। তার এই পাঁকাল মাছের মতো ছেলেদের থেকে পিছলে বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে বন্ধুরা হাসি ঠাট্টা করে বলে–তোর একটা সাইকিয়াট্রিস্টের সংগে কনসাল্ট করা দরকার বিথী।নারী পুরুষের আকর্ষণ তো প্রকৃতিদত্ত।মেলামেশা করলে বা একটু আধটু সম্পর্কে জড়ালে কি বিয়ে করতে হবে?তুই মান্ধাতা আমলের যুগে পড়ে আছিস। আরে বাবা নিখাদ বন্ধুত্ব ও হতে পারে। নাকি তোর রূপের অহংকারে ছেলেদের তুচ্ছাতিতুচ্ছ জ্ঞান করিস?ইংরাজির কুনাল স্যার তো তোর জন্য ফিদা।আমি হলে ঝুলে পড়তে এক মুহূর্তও ভাবতাম না।হঠাৎ মিতালি বলে একজন বন্ধু বলল–আচ্ছা বিথী তুই সমকামী নোস তো?তোর চালচলন কিন্তু খুব সন্দেহজনক।

বিথী মুচকি হেসে বলল–তোর মনে হয়?আর হলেই বা কি।আমি তোদের মধ্যে কাউকে কি পার্টনার করার অফার দিয়েছি? এতদিনে আমার বিশেষ বান্ধবী কেউ থাকলে তোদের গোয়েন্দা চোখে নিশ্চয়ই ধরা পড়ত।আরে বাবা তোদের মতো আমার সহপাঠী ছেলে বন্ধুও তো আছে। তাদের সঙ্গে মেলামেশা আড্ডা সবটাই তো হয়। তোদের হয়তো স্টেডি বয়ফ্রেন্ড আছে। দ্যাখ ভাই আমি কলেজে এসেছি লেখাপড়া করতে।ছেলেদের সংগে ফষ্টিনষ্টি বা প্রেম করতে নয়।প্রেম করার জন্য ঢের সময় পাব।কিন্তু লেখাপড়ার সময়টা হারিয়ে ফেললে আর ফিরে পাবো না।ওরা বলল–আমরা তো ভাই লেখাপড়ার সংগে সংগেই একটু আধটু ইন্টুমিন্টুও করি।তাতে ক্ষতি তো কিছু হচ্ছে না।বরং লাভই হয়।শরীর মন দুটোই চনমনে থাকে।আমরাও তো স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই পড়তে এসেছি।

বিথী বলল–আমার রসায়নটা একটু অন্যরকম রে।আমি যার সঙ্গে বিয়ে করব বা প্রেম করব সে এখন থেকেই আমার জন্য সাধনা করছে।ওরা সমস্বরে বলল–সেই ভাগ্যবান ব্যক্তিটি কে তোকে বলতেই হবে।বিথী বলল–সে কে আমিও জানিনা। তবে নিশ্চয়ই একদিন খুঁজে পাব।

বিথী এই গাড্ডায় পড়ে ভাবছিল এরকম মনোভাব ধরে রাখতে পারলে সে লেখাপড়া শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারত।তারপর আর পাঁচজনের মতো বাবা মায়ের পছন্দে কিংবা নিজের পছন্দে ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠিত ছেলের সংগে বিয়েটা করত।কিন্তু সব ওলোট পালট হয়ে গেল রঙ্গমঞ্চে হঠাৎই অবনীর আগমনে।

অবনীকে প্রথম দিন দেখেই বিথী একটা অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণ বোধ করেছিল।অবনী হল তার বড় বৌদির খুড়তুতো ভাই।নিজের খুড়তুতো ভাই নয়।বড় বৌদির বাবার খুড়তুতো ভাই য়ের ছেলে।অবনীর ছফুট দু ইঞ্চি হাইট।গৌরবর্ণ রঙ,সুদর্শন আকর্ষণীয় চেহারা আর পেটানো স্বাস্থ্য।সদ্য একটা কোম্পানিতে জয়েন করেছে। সে একদিন তার দিদির দেওয়া ঠিকানা মতো দেখা করতে এল। বৌদি তার সঙ্গে সবার পরিচয় করিয়ে দিল।কিন্তু সে ছেলে তাকে তেমন পাত্তা না দিয়ে শুধু আলাপটুকু করেই ছোড়দার সংগে আড্ডায় মশগুল হয়ে পড়ল।

এই পাত্তা না দেওয়াটা বিথীর ইগোকে প্রথম হার্ট করল।দীর্ঘদিন ধরে পুরুষের মুগ্ধ চোখ কিংবা লোলুপ চোখকে বিথী ইগনোর করেছে।আননোন ফোনে প্রেমের ভাষণ শুনে শুনে বিরক্ত হয়ে আননোন ফোন রিসিভ করাই বন্ধ করে দিয়েছে।অজস্র বানান ভুলে ভরা গোছা গোছা প্রেমপত্র ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছে।কিন্তু আজ তার কি হল?সে সুদর্শন ছেলে তো কম দ্যাখেনি। তাহলে এক দেখাতেই অবনীকে তার এত ভালো লাগছে কেন?সে তো ভীষণই বাস্তববাদী মেয়ে।ছেলেটির সঙ্গে ভালোভাবে আলাপ পরিচয় হল না,তার পরিবারের কথা জানা হল না অথচ দেখা মাত্রই অহংকারী ছেলেটাকে ভালো লেগে গেল?নাকি ছেলেটা তেমন পাত্তা দিল না বলেই আকর্ষণটা তীব্র হল?

ছোড়দা বড়দা বড় বৌদির সংগে আড্ডাতে সেও উপস্থিত ছিল।অবনী গল্পের মাঝে একবারও তার দিকে চোরা চোখে চাইলই না?অথচ সে নিজেই অবনীর গল্প আর মাঝে মাঝে প্রাণখোলা হাসি হাঁ করে গিলছিল।বৌদির কথায় বুঝল তার এই তুতো ভাইয়ের সংগে তার বেশ যোগাযোগ আছে।দু দফা চা কফি খাওয়ার পর বৌদি বলল–টুবাই আজ রাতে এখানে খেয়ে যাবি।আচ্ছা তুই আছিস কোথায়?বিথী মনে মনে বলল–বাব্বা বাবুর একটা ডাকনামও আছে?

অবনী বলল–মাস দুয়েক পিজিতে ছিলাম।এখন মানিকতলায় একটা ওয়ান রুম ফ্ল্যাটে থাকি।—তাহলে বাগমারি থেকে খুব কাছেই থাকিস। অবনী বলল–আজ থাক দিভাই।আমি বরং রবিবার আসব।–তাহলে সকালেই চলে আসিস।একবারে রাতে খেয়ে ফিরবি। আসল কথাটাই জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছিলাম।হ্যাঁ রে কাকু কাকিমা কেমন আছেন?অবনী বলল– বাবা ভালো আছে।মা একগাদা ওষুধের ওপর আপাতত ঠিক আছে।আজ আমি উঠছি দিভাই।হঠাৎ বিথীর দিকে চোখ পড়তেই বলল–আপনার সংগে সেভাবে আলাপ পরিচয় হল না। আজ আমার একটু তাড়া আছে।রবিবার দেখা হচ্ছে।

সেই থেকে অবনীর এই বাড়িতে এন্ট্রি।ইদানীং সব রবিবার ছাড়াও বাড়িতে ভালো মন্দ কিছু রান্না হলেই ফোন করে বৌদি তার পেয়ারের ভাইকে ডেকে পাঠায়।তিনিও দিভাই একবার ডাক দিলেই চলে আসেন এবং চোব্যচোষ্য খেয়ে রাত দশটা পর্যন্ত আড্ডা মেরে নিজের ডেরায় ফেরেন।তার ব্যবহারে তার গম্ভীর প্রকৃতির বাবা ও খিটখিটে মা ও মুগ্ধ।

প্রথম রবিবারেই বিথীর সংগে অবনী অনেকটা সময় কাটিয়েছিল।তার সাবলীল ব্যবহার ও কথাবার্তায় বিথীর মুগ্ধতা বেড়ে গিয়েছিল।ইদানীং অবনী আসাতে ছোড়দা আর বড়দার সান্ধ্য আড্ডা ব্যাহত হচ্ছিল বলে আধঘন্টা গল্প করার পর একটু আসছি ভাই বলে বেরিয়ে যেত।তখন যতো গল্প হত বিথীর সংগে।এভাবেই আস্তে আস্তে বিথীর অবনীর প্রতি ক্রমশ মুগ্ধতা বাড়ছিল।চাতক পাখির মতো অবনীর জন্য বিথীর অপেক্ষা করার সময় বিথী নিজেই অবাক হচ্ছিল।অথচ অবনী সবার সঙ্গে শুধু নির্ভেজাল আড্ডা দিত।বিথীর সঙ্গে একা গল্প করলেও চোখে চোখ রেখে গল্প করত।এই ছেলে নির্ঘাত তার দুর্বল তা কন্ট্রোল করে রাখত।কিন্তু বিথীর ক্রমশই জেদ চেপে যাচ্ছিল।সে নিজে এগিয়ে এসেও অপর পক্ষের নির্লিপ্ততা মেনে নিতে পারছিলাম না।

ক্রমশ–

বালুরঘাট হিলি রেলপ্রকল্পে বাজেটে বরাদ্দ হলো ২১০ কোটি টাকা, সঙ্গে একলাখি বালুরঘাট রেলপথ উন্নয়নে উদ্যোগ রেলের

০৩ ফেব্রুয়ারী, দিল্লিঃ গত ১লা ফেব্রুয়ারী কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন পেশ করলেন ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় বাজেট। যেখানে বালুরঘাট হিলি রেলপ্রকল্পে বাজেটে বরাদ্দ হলো ২১০ কোটি টাকা, সঙ্গে একলাখি বালুরঘাট রেলপথ উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ করেছে রেল। ইতিমধ্যে বালুরঘাট হিলি নতুন রেল প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ করবার জন্য ২৯৮ কোটি টাকা রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দেবার পাশাপাশি ৫০ কোটি টাকা ব্যায়ে ৫টি ব্রিজের অবশিষ্টাংশ নির্মানের কাজ শুরু করেছে রেল। এবার আরও ২১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে বালুরঘাট হিলি রেলপথ দ্রুত নির্মানে গতি এনে চলতি বছরেই কাজ সম্পূর্ণ করতে চাইছে রেল। চলতি মাসেই জমি হাতে পেলে বালুরঘাট হিলি প্রকল্পে মাটির কাজ শুরু করতে চাইছে রেল।

পাশাপাশি বালুরঘাট হিলি রেলপথে দ্রুত আরো গতি আনতে মল্লিকপুর, মালঞ্চা ও দৌলতপুর স্টেশনকে ডি থেকে বি ক্যাটাগরিতে উন্নতি করবার দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে রেল। পাশাপাশি বালুরঘাট স্টেশনে আরও একটি লাইন ও প্লাটফর্ম তৈরীর কাজ চলতি মাসেই শেষ করতে চাই রেল, যার জন্য সিগনাল উন্নতি করবার টেন্ডার ডেকেছে রেল।

সম্ভবত মার্চ মাসেই বালুরঘাট থেকে চালু হতে পারে বালুরঘাট গুয়াহাটি ও বালুরঘাট দিল্লি ট্রেন পরিষেবা। পাশাপাশি বালুরঘাট থেকে মালদা ও বালুরঘাট থেকে কাটিহার ইমু ট্রেন পরিষেবা চালু করার দাবিকেও বিবেচনা করছে রেল। সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে রেল পরিষেবা উন্নত করতে তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার অনেকাংশেই সম্পূর্ণ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, খুব দ্রুত বালুরঘাট সহ জেলার অন্যান্য অঞ্চলের রেল পরিকাঠামো বৃদ্ধি পাবে। বালুরঘাট হিলি রেল প্রকল্পের কাজ রেল চাইলেও রাজ্য সরকারের জন্য ধিরে চলছে জমি অধিগ্রহণ। রেল চাই চলতি বছরের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবে রূপ পাক, তাই এবারের রেল বাজেটে ২১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রেল।

একলাখি বালুরঘাট রেল উন্নয়ন ও রেলযাত্রী সমাজ কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান স্মৃতিশ্বর রায় আমাদের জানান দীর্ঘ আন্দোলনের পরে একে একে সাফল্যের মুখ দেখছে এই জেলার মানুষ। দীর্ঘ দিন অবহেলায় কেটেছে এই জেলার রেল প্রকল্পের কাজ, কেন্দ্রীয় সরকার বর্তমানে মুখ তুলে তাকিয়েছে তাই ধন্যবাদ জানাই প্রধানমন্ত্রী, রেলমন্ত্রী ও বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারকে।

মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বালুরঘাট থেকে সৌজন্যে টিভি ১৮

২১ শে জানুয়ারী সূচনা হলো বালুরঘাট হিলি নতুন রেল প্রকল্পের কাজ, ব্রীজের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের সূচনা করেন সাংসদ ও ডিআরএম

২১শে জানুয়ারি, হিলিঃ ২১শে জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হলো বালুরঘাট হিলি রেল প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ। রবিবার সকালে হিলি যমুনা নদীর পাড়ে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার ও কাটিহার ডিভিশনের ডিআরএম সুরেন্দ্র কুমার। এদিন বালুরঘাট হিলি রেল প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি ব্রিজের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন তারা। অনুষ্ঠানে ডিআরএম ও সাংসদ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএসএফের আধিকারিক থেকে রেলের উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিকরা। প্রকল্পের শিলান্যাস করতে গিয়ে সাংসদ জানান বালুরঘাট হিলি জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প অথচ জমি জটে দীর্ঘদিন আটকে ছিল এই প্রকল্পের কাজ। ইতিমধ্যে রেলের তরফ থেকে জমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন কে 298 কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে এবং 50 কোটি টাকা এই প্রকল্পে যুক্ত ব্রীজের নির্মাণ কাজের জন্য বরাদ্দ হয়েছে।

যা ট্রেন্ডার প্রক্রিয়ার পরে আজ থেকে কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। কাটিহার ডিভিশনের ডি আর এম সুরেন্দ্র কুমার জানান, বালুরঘাট হিলি রেল প্রকল্প এটি গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প, রেল এই প্রকল্পের কাজ গুরুত্ব সহকারে দেখছে, ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হলেই এই প্রকল্পের কাজ দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হবে । সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের মধ্যেই বালুরঘাটে হিলি রেল প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হবে। বালুরঘাট হিলি রেল প্রকল্প শুধুমাত্র যাত্রী পরিবহন নয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য ব্যবহার করা হবে পাশাপাশি রেলপথকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য দুই দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ গড়ে তোলা হবে।

পিকনিক ***** তনুজা চক্রবর্তী

পিকনিক
তনুজা চক্রবর্তী
 
আবারও একটা নতুন বছর আসতে চলেছে। পুরানো ক্যালেন্ডারের জায়গায় নতুন ক্যালেন্ডার টাঙানো হবে দেওয়ালে, রাখা হবে টেবিলের ওপর। প্রতিবারের মত এবারেও মাহিরা একত্রিশে  ডিসেম্বর রাত বারোটার সময় বারান্দায় প্রদীপ জ্বালিয়ে  তার  ঠাম্মির  গাওয়া রবিঠাকুরের গান শুনিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাবে।  গানের সঙ্গে সে নাচবে । তার বাবা আর মা কবিতা পাঠ করবে। আর পরদিন পয়লা জানুয়ারির ভোর থেকেই শুরু হয়ে যাবে পিকনিকে যাওয়ার প্রস্তুতি।
মাহি তার বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার ব্যাগে তার খেলার সরঞ্জাম নিচ্ছে দেখে তার মা বেশ অবাক হল। অতবড় ব্যাগটায় ভরে কী এত নেবে সে? জানতে চাইল তার কাছে। তেমন কিছুই নয়,কেবল ব্যাগটা তার খুব পছন্দের, তাই সঙ্গে নিচ্ছে।
 পাড়ার ছোট-বড় প্রায় প্রতিটা মানুষই যাচ্ছে । এবার তারা যেখানে যাচ্ছে, সেখানে পৌঁছতে গাড়িতে ঘন্টাখানেক সময় লাগবে। গ্রামটার নাম বড়গাছিয়া।  মাঠের পর মাঠ টপকে খেঁজুর গাছে ঘেরা একটা জায়গা আছে সেই গ্রামে। সেই জায়গাটার  পাশ দিয়ে বয়ে গেছে একটা খাল, সেখানেই এবার পিকনিক করবে তারা। সেই খালের জল সারবছর চাষের কাজে ব্যবহার করে চাষিরা। তাল গাছের গোড়া কেটে বানানো কয়েকটা ডোঙাও আছে সেই খাল পারাপার করার জন্য। বিধু কাকু আগেই সেখানে গিয়ে সবটা দেখে এসে জানিয়েছে।
আশেপাশের সুন্দর গ্রাম্য পরিবেশের মাঝে কাঠের জ্বালে সকালের জলখাবার থেকে বিকেলের চা অবধি রান্না করবে পাড়ার কাকু-জেঠুরা। রান্না থেকে ছুটি দেওয়া হবে মা-কাকি-জেঠিমাদের । তারা এদিক-ওদিক ঘুরবে আর নিজেদের মধ্যে গল্প করে সারাটা দিন কাটিয়ে দেবে। মাহিও তার বয়সি বন্ধুদের সঙ্গে খুব মজা করে কাটাবে। কেবল ডোঙায় চড়া হবেনা বলে মনটা খুঁত খুঁত করছে তার। আসলে ডোঙা চালানো আর চড়া দুটোই বেশ কঠিন, তারজন্য ব্যালেন্স লাগে।
দুটো বাসে চেপে সকাল সকাল সেখানে পৌঁছে গেল তারা। সকালের খাবারের পর্বে ছিল লুচি-তরকারি আর মোয়া। তারপর একটা করে কমলালেবু। মাহি এবার তার জন্মদিনে পাওয়া ব্যাডমিন্টনের সেটটা সঙ্গে নিয়ে এসেছে। তার ব্যাট নিয়ে দাদা-দিদি,কাকুরাও খেলেছে তাদের সঙ্গে।
এবার প্রথম থেকেই সবটা একটু অন্যরকম ছিল । আসার সময় মা-বাবা, কাকু-কাকিমা,জেঠু জেঠিরা চড়েছিল একটা বাসে,  সব ছোটোদের নিয়ে পাড়ার দাদা-দিদিরা আর রতন জেঠু অন্যটায়। গোটা রাস্তা হইচই, বেসুরে গান গাইতে গাইতে একসময় তারা পৌঁছে গেছিল পিকনিকের জায়গায়। সবার প্রথমে মাহি বাসে উঠেই তার ব্যাগটাকে একদম পেছনের সিটের তলায় রেখে এসেছিল, পাছে কেউ তার মায়ের মত প্রশ্ন না করে।
দুপুরের রান্না প্রায় শেষ, বেগুনি ভাজা শুরু হয়েছে। প্রথমে ছোটোরা খাবে, তারপর মা-কাকি-জেঠিরা, আর সবশেষে খাবে বাবা-জেঠু-কাকুরা।
মাহি নিজের আসনে বসে তার দু-পাশে দুই হাত দিয়ে দুটো জায়গা রেখে দিল। সেখানে সে কাউকে বসতে দিচ্ছে না। সকলে মিলে বারবার জিজ্ঞেস করার পরেও সে চুপ করে বসে আছে। সেখানে সে কাকে বসাতে চায়, সেটাও বলছেনা! মায়ের কাছে বকুনি খাওয়ার পরেও কাউকে বসতে দিল না। পাতে ভাত, ডাল আর বেগুনি দেওয়া হয়েছে। সবাই খেতে শুরু করেছে, কেবল মাহি হাত গুটিয়ে বসে আছে।
 রতন জেঠু,  পাড়ার সবচেয়ে  বয়জ্যেষ্ঠ মানুষ, সব বাচ্চার খুব কাছের বন্ধু।  যাঁর প্রশ্রয় পেয়ে মাহি তার নতুন দুই  বন্ধুকে পিকনিকে নিয়ে আসতে পেরেছে। তাঁর  চোখের ইশারায় যে বাসটাতে চড়ে সে এসেছিল, হঠাৎই এক দৌড়ে সেই বাসের কাছে পৌঁছে ঢুকে গেল তার ভেতরে। সবাই খাওয়া ভুলে তাকিয়ে আছে সেদিকে। এরপর ঠিক কী ঘটতে চলেছে, কেউ কিছুই বুঝতে পারছে না।  মাহি বাসের ভেতর থেকে বেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসছে। তার কোলে লাটাই আর লাট্টু, পাড়ার কুকুরের দুটো বাচ্চা। দুদিন আগেই রোড অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেছে তাদের মা।

২১শে জানুয়ারী বালুরঘাট হিলি নতুন রেল প্রকল্পের কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন সাংসদ সুকান্ত মজুমদার ও কাটিহার ডিভিশনের ডিআরএম

১৯শে জানুয়ারী, বালুরঘাটঃ দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ২০১০ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী আজকের বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত রেল প্রকল্প বালুরঘাট হিলি নতুন রেলপথের কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে চলেছে রবিবার ২১শে জানুয়ারী। সূচনা করবেন বালুরঘাট লোকসভা সাংসদ সুকান্ত মজুমদার ও কাটিহার ডিভিশনের ডিআরএম সুরেন্দ্র কুমার, থাকবেন রেলের নির্মান বিভাগের অন্যান্য আধিকারিকরা। ২১শে জানুয়ারী অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে হিলি সীমান্তের যমুনা নদীর তীরে হিলি বাংলাদেশের সীমান্ত স্টেশনে। ঘটনার খবর প্রকাশ পেতেই উল্লাসে মেতেছে হিলির বাসিন্দারা। সাংসদ সুকান্ত মজুমদার জানান জমি অধিগ্রহনের জন্য রাজ্য সরকারের হাতে ২৯৮ কোটি টাকা তুলে দেবার পাশাপাশি ৫০ কোটি টাকার প্রায় ১০ টি ব্রিজ নির্মানের জন্য টেন্ডার করেছে রেল। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের শুরুতেই বালুরঘাট হিলির মধ্যে রেল পরিষেবা শুরু করতে চাই রেল পাশাপাশি হিলি সীমান্তের সঙ্গে বাংলাদেশ রেলপথকেও যুক্ত করতে চাই রেল, যারফলে এই রেলপথ দিয়ে দুই দেশের বানিজ্য আরও বেশি করে বাড়াতে উদ্যোগ গ্রহন করেছে রেল মন্ত্রক।

২৮শে এপ্রিল বালুরঘাট থেকে বন্ধ গৌড় লিঙ্ক, শুধু চলবে প্যাসেঞ্জার ট্রেন

৩০শে ডিসেম্বর, বালুরঘাটঃ ১লা জানুয়ারী থেকে বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেস চালু হতেই ২৮শে এপ্রিল, বালুরঘাট থেকে চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে ২৩১৫৪ গৌড় লিঙ্ক এক্সপ্রেস। তবে বালুরঘাট থেকে মালদা পর্যন্ত একি সময়ে শুধু চলবে প্যাসেঞ্জার ট্রেন। যার মাধ্যমে জেলা বাসি গৌড় এএক্সপ্রেসের সুবিধা নিতে পারবে। রাত্রি কালিন সময়ে বালুরঘাট থেকে গৌড় লিঙ্ক এক্সপ্রেস বন্ধ হয়ে গেলে, পাকুড় রামপুরহাট নলহাটি শান্তিনিকেতন বর্ধমান রুটের সরাসরি কোন ট্রেন পরিষেবা থাকলো না। তাই যেসকল যাত্রীরা রাতে এই রুট ব্যাবহার করতে চাই তাদের জন্য মালদা বালুরঘাট প্যাসেঞ্জার ট্রেন ব্যাবহার করে মালদা থেকে গৌড় এক্সপ্রেস ট্রেনের সুবিধা গ্রহন করতে পারবার সুযোগ থাকছে। শুধু তাই নয় গৌড় ছাড়াও দার্জিলিং মেল কিম্বা পদাতিক এক্সপ্রেসের মতো অনেক ট্রেন মালদা টাউন স্টেশন থেকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মানুষ গ্রহন করতে পারবে।

পাশাপাশি আগামী কাল থেকে ৩রা জানুয়ারী বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট বুকিং করতে পারবে। ৩১শে ডিসেম্বর থেকে ০৩১৮২ বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট ও ২রা জানুযারী শিয়ালদহ থেকে ১৩১৮৯ আপ ট্রেনের টিকিট বুকিং শুরু হলেও এই দিন থেকে ৩রা জানুয়ারীর টিকিট বুকিং বালুরঘাট থেকে বন্ধ ছিলো, একলাখি বালুরঘাট রেল উন্নয়ন ও যাত্রী সমাজ কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান স্মৃতিশ্বর রায় কাটিয়ার ডিভিশনের ডিআরএম সুরেন্দ্র কুমার চিঠি দিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান আগামী কাল থেকে সব টিকিট বুকিং শুরু হয়ে যাবে।

১লা জানুয়ারী বছরের প্রথম দিন বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেসের শুভ যাত্রা

২৭শে ডিসেম্বর, বালুরঘাটঃ ২০২৪ সালের প্রথম দিন চালু হতে চলেছে বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেস এমনটাই খবর রেল সুত্রে, জানালেন বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। এই দিন বেলা ১২টায় বালুরঘাট স্টেশন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে এই ট্রেনের যাত্রার শুভ সূচনা করবেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, এবং বালুরঘাট স্টেশনে উপস্তিত থাকবেন বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার ও উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব, উপস্থিত থাকবেন কাটিহার ডিভিশনের ডিআরএম সুরেন্দ্র কুমার। এমনটাই জানান একলাখি বালুরঘাট রেল উন্নয়ন ও যাত্রী কল্যাণ সমিতি চেয়ারম্যান স্মৃতিশ্বর রায়। এই বিষয়ে তিনি আমাদের জানান সাংসদ তাদের এইদিন ফোন মারফৎ জানিয়েছেন ডিসেম্বর মাসে ২৪ তারিখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফর বাতিল হবার কারণে ঐদিন প্রধানমন্ত্রীর হাত দিয়ে বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেস চালু হতে পারেনি, তাই আগামী বছরের প্রথম দিনেই বালুরঘাট স্টেশন থেকে চলতে চলেছে বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেস।

এইদিন ট্রেনটি বেলা ১২টায় ছেড়ে রাত্রি সাড়ে ১০টায় শিয়ালদহ স্টেশনে পৌছবে।

তিনি আরও জানান শিয়ালদহ থেকে ২রা জানুয়ারী থেকে প্রতিদিন রাত ১০টা ৩০মিনিটে ছেড়ে বালুরঘাটে সকাল ৮টা৩০মিনিটে প্রবেশ করবে আবার বালুরঘাট থেকে রাত ৭টায় ছেড়ে সকাল ৪টা২০মিনিটে শিয়ালদহে প্রবেশ করবে। পাশাপাশি গৌড়লিঙ্ক এক্সপ্রেস বালুরঘাট থেকে চলবে, যার ফলে জেলার বাসিন্দারা গৌড় এক্সপ্রেস ট্রেনের সুবিধা নিতে পারবে। পাশাপাশি বালুরঘাট স্টেশনে একাধিক পরিকাঠামো উন্নয়নের  কাজ চলছে যার ফলে জেলাবাসি খুব শীঘ্রই বালুরঘাট থেকে পেতে পারবে বালুরঘাট চেন্নাই, বালুরঘাট নিউ দিল্লি ও বালুরঘাট গুয়াহাটি এক্সপ্রেস, যার ফলে জেলা বাসির দীর্ঘদিনের দাবী পূরণ হবে বলে জানান একলাখি বালুরঘাট রেল উন্নয়ন ও যাত্রী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান স্মৃতিশ্বর রায়। এছাড়াও বালুরঘাট একটা অত্যাধুনিক রেল স্টেশনে রূপ নেবে আগামী কিছুদিনের মধ্যে। আর এই সব উন্নয়ন পেয়ে খুসির হাওয়া জেলায়।

২০২৪ সালের প্রথম দিন বালুরঘাট থেকে শুভ সুচনা বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেসের

২৭শে ডিসেম্বর, বালুরঘাটঃ ২০২৪ সালের প্রথম দিন চালু হতে চলেছে বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেস এমনটাই খবর রেল সুত্রে, জানালেন বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। এই দিন বালুরঘাট স্টেশন থেকে এই ট্রেনের যাত্রার শুভ সূচনা করবেন বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার ও উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব, উপস্থিত থাকবেন কাটিহার ডিভিশনের ডিআরএম সুরেন্দ্র কুমার। এমনটাই জানান একলাখি বালুরঘাট রেল উন্নয়ন ও যাত্রী কল্যাণ সমিতি চেয়ারম্যান স্মৃতিশ্বর রায়। এই বিষয়ে তিনি আমাদের জানান সাংসদ তাদের এইদিন ফোন মারফৎ জানিয়েছেন ডিসেম্বর মাসে ২৪ তারিখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফর বাতিল হবার কারণে ঐদিন প্রধানমন্ত্রীর হাত দিয়ে বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেস চালু হতে পারেনি, তাই আগামী বছরের প্রথম দিনেই বালুরঘাট স্টেশন থেকে চলতে চলেছে বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেস।

তিনি আরও জানান শিয়ালদহ থেকে প্রতিদিন রাত ১০টা ৩০মিনিটে ছেড়ে বালুরঘাটে সকাল ৮টা৩০মিনিটে প্রবেশ করবে আবার বালুরঘাট থেকে রাত ৭টায় ছেড়ে সকাল ৪টা২০মিনিটে শিয়ালদহে প্রবেশ করবে। পাশাপাশি গৌড়লিঙ্ক এক্সপ্রেস বালুরঘাট থেকে চলবে, যার ফলে জেলার বাসিন্দারা গৌড় এক্সপ্রেস ট্রেনের সুবিধা নিতে পারবে। পাশাপাশি বালুরঘাট স্টেশনে একাধিক পরিকাঠামো উন্নয়নের  কাজ চলছে যার ফলে জেলাবাসি খুব শীঘ্রই বালুরঘাট থেকে পেতে পারবে বালুরঘাট চেন্নাই, বালুরঘাট নিউ দিল্লি ও বালুরঘাট গুয়াহাটি এক্সপ্রেস, যার ফলে জেলা বাসির দীর্ঘদিনের দাবী পূরণ হবে বলে জানান একলাখি বালুরঘাট রেল উন্নয়ন ও যাত্রী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান স্মৃতিশ্বর রায়। এছাড়াও বালুরঘাট একটা অত্যাধুনিক রেল স্টেশনে রূপ নেবে আগামী কিছুদিনের মধ্যে। আর এই সব উন্নয়ন পেয়ে খুসির হাওয়া জেলায়।

৩০শে ডিসেম্বর মালদা থেকে ব্যাঙ্গালোরের মধ্যে অমৃত ভারত এক্সপ্রেস এর শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

২২শে ডিসেম্বর, দিল্লিঃ ৩০শে ডিসেম্বর মালদা থেকে ব্যাঙ্গালোরের মধ্যে দেশের প্রথম অমৃত ভারত এক্সপ্রেস এর যাত্রা শুরু। শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর পাশাপাশি দক্ষিণ ভারত থেকে এইদিন চালু হবে আরো তিনটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। মালদা থেকে ব্যাঙ্গালোরের মধ্যে দেশের প্রথম অমৃত ভারত এক্সপ্রেসে থাকবে মোট ২২ টি কোচ, এর মধ্যে থাকবে নন এসি স্লিপার কোচ ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কোচ। এক সঙ্গে মোট ১৪০০ এর বেশি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে, সঙ্গে থাকবে পুল পুশ ইঞ্জিন ও অত্যাধুনিক এলএচবি কোচ। এইদিন মালদা ব্যাঙ্গালোর অমৃত ভারত হবে দেশের মধ্যে প্রথম পরিষেবা, ভাড়াও হবে সাধারণ যাত্রীদের আয়ত্তের মধ্যে। সব দিক থেকে ভোটের আগে হতে চলেছে রেল মন্ত্রকের নতুন চমক।

প্রধানমন্ত্রীর হাত দিয়ে ২৪শে ডিসেম্বর চালু হতে চলেছে বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেস

১৬ই ডিসেম্বর, বালুরঘাটঃ ২৪শে ডিসেম্বর মাসেই চালু হতে চলেছে বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেস, বিজ্ঞপ্তি জারি করলো রেলবোর্ড, এমনটাই জানালেন বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তিনি ফোন মারফৎ এই কথা জানান একলাখি বালুরঘাট রেল উন্নয়ন ও যাত্রী কল্যাণ সমিতি চেয়ারম্যান স্মৃতিশ্বর রায়কে। এই বিষয়ে তিনি আমাদের জানান সাংসদ তাদের এইদিন সন্ধ্যায় ফোন মারফৎ জানিয়েছেন ডিসেম্বর মাসে ২৪ তারিখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত দিয়ে বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেস চালু হতে পারে।

তিনি আরও জানান সম্ভবত শিয়ালদহ থেকে প্রতিদিন রাত ১০টা ৩০মিনিটে ছেড়ে বালুরঘাটে সকাল ৮টা৩০মিনিটে প্রবেশ করবে আবার বালুরঘাট থেকে রাত ৭টায় ছেড়ে সকাল ৪টা২০মিনিটে শিয়ালদহে প্রবেশ করবে। পাশাপাশি গৌড়লিঙ্ক এক্সপ্রেস এর পরিবর্তে একি সময় বালুরঘাট মালদা প্যাসেঞ্জার ট্রেন চলবে, যারফলে জেলার বাসিন্দারাও এই ট্রেনের মাধ্যমে মালদা থেকে গৌড় এক্সপ্রেস ট্রেনের সুবিধা নিতে পারবে। এরফলে জেলাবাসির দীর্ঘদিনের দাবী পূরণ হবে বলে জানান একলাখি বালুরঘাট রেল উন্নয়ন ও যাত্রী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান স্মৃতিশ্বর রায়। ঘটনায় খুসির হাওয়া জেলায়।

২৮শে ডিসেম্বর বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেসের ট্রায়াল, ৮ থেকে ১০ই জানুয়ারি চালু

১১ই ডিসেম্বর, বালুরঘাটঃ ২৮শে ডিসেম্বর বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেসের ট্রায়াল রানের দিন ঠিক করলো পূর্ব রেল এবং ৮ থেকে ১০ই জানুয়ারি চালু হবার সম্ভাবনা বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেসের, এমনটাই খবর রেল সুত্রে। জানাগেছে ২৮শে ডিসেম্বর ট্রেনটির ট্রায়াল রান করাবার পরে বালুরঘাট স্টেশনে যাবতীয় পরিকাঠামো খতিয়ে দেখবে রেল, পাশাপাশি জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিক ভাবে চলাচল শুরু করবে বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেস।

ইতিমধ্যে বালুরঘাট স্টেশনে ট্রায়াল রানের যাবতীয় প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেল। বালুরঘাট স্টেশনের নির্মান কাজের পরিদর্শনে আসতে চলেছে রেল কর্মকর্তারা।

সম্ভবত বালুরঘাট স্টেশনে ১লা জানুয়ারী থেকে চালু হবার সম্ভাবনা পিট লাইনের কাজ

৯ই জানুয়ারী, বালুরঘাটঃ বালুরঘাট থেকে ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে চালু হবার সম্ভাবনা বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেস, গত শুক্রবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে নতুন এই ট্রেনের কথা জানাই রেল। এবার  সম্ভবত ১লা জানুয়ারী থেকে পিট লাইন চালু হবার সম্ভাবনার কথা শোনা গেলো রেলের তরফ থেকে। পিট লাইন চালু হলেই বালুরঘাট থেকে আরো তিনটি ট্রেন পরিষেবা চালু করতে পারে রেল। যার মধ্যে থাকতে পারে নিউদিল্লী বালুরঘাট এক্সপ্রেস, বালুরঘাট যসবন্তপুর এক্সপ্রেস ও বালুরঘাট গুয়াহাটি এক্সপ্রেস।

পিট লাইন চালু করার খবর প্রকাশ্যের সম্ভাবনা সামনে আসতেই এবার জেলা বাসি আশায় বুক বাধছে বালুরঘাট স্টেশন থেকে সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ট্রেন চালু হতে পারে। যা ইতিমধ্যে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার বালুরঘাট স্টেশনে এসে এইকথা জানিয়ে গেছেন।

একলাখি বালুরঘাট রেল উন্নয়ন ও যাত্রী সমাজ কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান স্মৃতিস্বর রায় আমাদের জানান পিট লাইন চালু হলেই নিউদিল্লী বালুরঘাট এক্সপ্রেস, বালুরঘাট যসবন্তপুর এক্সপ্রেস ও বালুরঘাট গুয়াহাটি এক্সপ্রেস চালু হবে শুধু নয়,  বালুরঘাট কাটিহার ও বালুরঘাট মালদা টাউনের মধ্যে ইমু ট্রেন পরিষেবা চালু হবে।

 

ডিসেম্বর মাসেই চালু হতে চলেছে বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেস, বিজ্ঞপ্তি জারি রেলের

৮ই ডিসেম্বর, বালুরঘাটঃ ডিসেম্বর মাসেই চালু হতে চলেছে বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেস, বিজ্ঞপ্তি জারি করলো রেলবোর্ড, এমনটাই জানালেন বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তিনি শুক্রবার দিল্লী থেকে ফোন মারফৎ এই কথা জানান একলাখি বালুরঘাট রেল উন্নয়ন ও যাত্রী কল্যাণ সমিতি চেয়ারম্যান স্মৃতিশ্বর রায়কে। এই বিষয়ে তিনি আমাদের জানান সাংসদ তাদের এইদিন সন্ধ্যায় ফোন মারফৎ জানিয়েছেন চলতি মাসেই বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেস চালু হতে পারে। শুক্রবারে এই বিষয়ে রেলবোর্ড বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলো।

তিনি আরও জানান সম্ভবত শিয়ালদহ থেকে প্রতিদিন রাত ১০টা ৩০মিনিটে ছেড়ে বালুরঘাটে সকাল ৮টা৩০মিনিটে প্রবেশ করবে আবার বালুরঘাট থেকে রাত ৭টায় ছেড়ে সকাল ৪টা২০মিনিটে শিয়ালদহে প্রবেশ করবে। পাশাপাশি গৌড়লিঙ্ক এক্সপ্রেস এর পরিবর্তে একি সময় বালুরঘাট মালদা প্যাসেঞ্জার ট্রেন চলবে, যারফলে জেলার বাসিন্দারাও এই ট্রেনের মাধ্যমে মালদা থেকে গৌড় এক্সপ্রেস ট্রেনের সুবিধা নিতে পারবে। এরফলে জেলাবাসির দীর্ঘদিনের দাবী পূরণ হবে বলে জানান একলাখি বালুরঘাট রেল উন্নয়ন ও যাত্রী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান স্মৃতিশ্বর রায়। ঘটনায় খুসির হাওয়া জেলায়।

ডিসেম্বর মাসেই চালু হতে চলেছে বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেস, বিজ্ঞপ্তি জারি করতে চলেছে রেলবোর্ড

৭ই ডিসেম্বর, বালুরঘাটঃ ডিসেম্বর মাসেই চালু হতে চলেছে বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেস, বিজ্ঞপ্তি জারি করতে চলেছে রেলবোর্ড, এমনটাই জানালেন বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তিনি বৃহস্পতিবার দিল্লী থেকে ফোন মারফৎ এই কথা জানান একলাখি বালুরঘাট রেল উন্নয়ন ও যাত্রী কল্যাণ সমিতি চেয়ারম্যান স্মৃতিশ্বর রায়কে। এই বিষয়ে তিনি আমাদের জানান সাংসদ তাদের এইদিন সন্ধ্যায় ফোন মারফৎ জানিয়েছেন চলতি মাসেই বালুরঘাট শিয়ালদহ এক্সপ্রেস চালু হতে পারে। শুক্রবারে এই বিষয়ে রেলবোর্ড বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে চলেছে বলে সাংসদ একলাখি বালুরঘাট রেল উন্নয়ন ও যাত্রী কল্যাণ সমিতিকে।

তিনি আরও জানান সম্ভবত শিয়ালদহ থেকে প্রতিদিন রাত ৯টা ১৫মিনিটে ছেড়ে বালুরঘাটে সকাল ৬টায় প্রবেশ করবে আবার বালুরঘাট থেকে রাত ৮টায় ছেড়ে সকাল ৫টায় শিয়ালদহে প্রবেশ করবে। পাশাপাশি গৌড়লিঙ্ক এক্সপ্রেস এর পরিবর্তে একি সময় বালুরঘাট মালদা প্যাসেঞ্জার ট্রেন চলবে, যারফলে জেলার বাসিন্দারাও এই ট্রেনের মাধ্যমে মালদা থেকে গৌড় এক্সপ্রেস ট্রেনের সুবিধা নিতে পারবে। এরফলে জেলাবাসির দীর্ঘদিনের দাবী পূরণ হবে বলে জানান একলাখি বালুরঘাট রেল উন্নয়ন ও যাত্রী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান স্মৃতিশ্বর রায়। ঘটনায় খুসির হাওয়া জেলায়।

বালুরঘাট বিমানবন্দর চালুর দাবী দক্ষিণ দিনাজপুর বাসীর, প্রশ্ন উঠছে সুকান্ত – অশোক লাহিড়ীর ভূমিকায়

বালুরঘাট, ২০শে অক্টোবরঃ ৪০ মিনিটে কলকাতা কিম্বা দুই ঘন্টায় দিল্লি কিম্বা তিন ঘন্টায় বেঙ্গালুরু, বালুরঘাট থেকে এই অল্প সময়ে এই যাত্রার কথা ভাবতেই অবিশ্বাস লাগে। কিন্তু বাস্তবে এই ভ্রমন সম্বব যদি বালুরঘাট বিমানবন্দর চালু করতে উদ্যোগ গ্রহন করে সরকার। অথচ দক্ষিণ দিনাজপুর মালদা ও উত্তর দিনাজপুর জেলার একাংশের মানুষকে এই সফর করতে যেতে হয় বাগডোগরা বিমানবন্দরে বিমান ধরতে। বালুরঘাট থেকে যার দুরত্ব ৩০০ কিলোমিটার। অথচ প্রবল সম্ভাবনাময় বালুরঘাট বিমানবন্দর চালুর বিষয় নিয়ে কোন হেলদোল নেই কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের। প্রায় ১২ কোটি টাকা রাজ্য সরকার খরচ করে বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে অন্যান্য পরিকাঠামো গড়ে তুলেও বিমান পরিষেবা চালু নিয়ে নিশ্চুপ কেন্দ্রীয় সরকার। বর্তমানে বালুরঘাট বিমানবন্দরের রানওয়ে প্রায় ১৫০০ মিটার হলেও ১৯০০ থেকে ২০০০ মিটার করবার জন্য প্রয়োজনিয় জমি রয়েছে বিমানবন্দরের হাতে। যদিও বর্তমানে এই বিমানবন্দর থেকে ATR 72 জাতীয় ৬০ থেকে ৭০ আসনের বিমান খুব সহজেই ওঠা নামা করতে পারবে বালুরঘাট বিমানবন্দর থেকে।

বালুরঘাট বিমানবন্দর চালু হলে এই জেলার যোগাযোগ ব্যাবস্থার উন্নতি ঘটবে শুধু তাই নয়, এই জেলার স্বাস্থ্য শিক্ষা সহ অর্থনৈতিক সামাজিক উন্নয়নে অভুতপূর্ব ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বিমান পরিষেবা ভালো হলে হিলি হয়ে বাংলাদেশ থেকে আসা যাত্রী সেবা উন্নতি ঘটবে বাড়বে যাত্রী সংখ্যাও। শুধু মাত্র বালুরঘাট থেকে বিমান কিম্বা ট্রেন পরিষেবা ভালো না হবার কারনে ক্রমেই কমছে যাত্রী সংখ্যা। ফলে অধিকাংশ যাত্রী শিলিগুড়ি কিম্বা কলকাতা হয়ে যেতে আগ্রহী হচ্ছে। এছাড়াও রাধিকাপুর যাত্রী সেবা খুলে গেলে হিলি শুধু মাত্র পরিকাঠামোর অভাবে পড়তে চলেছে বড়সরো চ্যালেঞ্জ এর মুখে।

তাই আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগেই এই জেলার বিমানবন্দর চালুর দাবী করছে এই জেলার মানুষরা। তবে বিমানবন্দর চালু আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বড় ইসু বলেই মনে করছে এলাকার মানুষরা। তাই সব রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিজেপির কাছে বিমানবন্দর চালু একটা বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ বর্তমানে বিজেপির দক্ষলেই রয়েছে বালুরঘাট লোকসভা ও বিধানসভার সিট। তাই বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ সুকান্ত মজুমদার থেকে বিধায়ক অশোক লাহিড়ী সবার কাছেই চ্যালেঞ্জ বিমানবন্দর চালু।

সোমবার হাওড়া এনজেপি বন্দে ভারতের টিকিট কেটে চড়তে হবে অন্য ট্রেনে? আপডেট দিল রেল

কলকাতা: বন্দে ভারতের টিকিট কেটেও সোমে চড়তে হবে অন্য ট্রেনে! বড় আপডেট দিয়ে এমনই কথা জানিয়ে দিল ইস্টার্ন রেল কর্তৃপক্ষ। পূর্বরেলের তরফে জানানো হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৩ এর হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দেভারত একপ্রেস ট্রেনটি বিকল্প যুবা রেক দিয়ে পরিচালনা করা হবে।

যান্ত্রিক সমস্যাজনিত কারণেই আগামিকাল অর্থাৎ ১৬.১০.২০২৩ তারিখ অর্থাৎ সোমবার ২২৩০১/২২৩০২ হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি-হাওড়া বন্দেভারত এক্সপ্রেস রেকটি বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই রেলের এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে পূর্বরেল সূত্রে।

যাত্রীদের সুবিধার্থে এবং পরিষেবা বজায় রাখতে রেল কর্তৃপক্ষের তরফে আপ এবং ডাউন উভয়পথে বিকল্প ট্রেনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে । বিকল্প রেকটিতে দুটি প্যান্ট্রি কারও যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিকল্প ট্রেনটি বোলপুর এবং মালদহ টাউন স্টেশনে উভয়দিকেই যাত্রাকালে ১০ মিনিটের জন্য থামবে।

কিন্তু ট্রেন বাতিল হলে পাওয়া যাবে তো রিফান্ড? ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা মিলবে তো? এই প্রশ্ন উঠছে যাত্রীদের মধ্যে। এই বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষ আগাম জানিয়েছে টিকিটের ফেরতযোগ্য অতিরিক্ত মূল্য নিয়মমাফিক ফেরত দেওয়া হবে। আর মিলবে খাবারও।