ধান চাষে এবার দক্ষিন দিনাজপুর জেলা স্পর্শ করলো ১লক্ষ ৮০হাজার হেক্টর জমি, বাড়ানো হচ্ছে সুগন্ধি ধানের উৎপাদন

২৭শে আগষ্ট, বালুরঘাটঃ ধান চাষে এবার দক্ষিন দিনাজপুর জেলা স্পর্শ করতে চলেছে ১লক্ষ ৮০হাজার হেক্টর জমি, শুধু বালুরঘাটেই ধান চাষ হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমি। যা দক্ষিন দিনাজপুর জেলায় ধান উৎপাদন এবার রাজ্যে সারা ফেলবে বলে মনে করছে কৃষি বিশেষজ্ঞরা। আগষ্ট মাসে বৃষ্টির সামান্য ঘারতি থাকলেও এবার বর্ষায় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে জেলায়, যার ফলে ধান বপন ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ হয়েছে অধিকাংশ জমিতে, তবে পাট জমিতে ধান বপনের প্রক্রিয়া চলছে জেলায়। যার ফলে আরো ৫০০ হেক্টর জমিতে ধানের চাষ বাড়বে বলে জানান দক্ষিন দিনাজপুর জেলা সহ কৃ্ষি অধিকর্তা জ্যোতির্ময় বিশ্বাস। তিনি বলে এবার জেলায় ধান চাষের খরচ কমিয়ে কৃ্ষকদের বেশী মুনাফা হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিলো, যেখানে মানুষের নির্ভরতা কমিয়ে যন্ত্রের মাধ্যমে ধান বপন করতে উদ্যোগ গ্রহন করেছিল দক্ষিন দিনাজপুর জেলা কৃ্ষি দপ্তর। যারজন্য ট্রাক্টর থেকে ধান বপন যন্ত্র কৃ্ষকদের সরবরাহের ব্যাবস্থা গ্রহন করেছে জেলা কৃ্ষি দপ্তর, দেওয়া হয়েছে ভর্তুকি।

 

এর পাশাপাশি দক্ষিন দিনাজপুর জেলায় চাহিদা সম্পূর্ণ সুগন্ধি ধান চাষের দিকেও নজর রেখে বিশেষ ধান চাষের উদ্যোগ গ্রহন করেছে বালুরঘাট সহ কৃ্ষি আধিকারিক পার্থ মুখ্যার্জী। তিনি আমাদের বলেন জেলায় গতবারে পরীক্ষামুলক ভাবে প্রায় ৫০ একর জমিতে সুগন্ধি বাসমতী ধান চাষের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছিলো। পরীক্ষামুলক এই ধান চাষে সফলতা পেলেও ধান থেকে চাল তৈরির জন্য উন্নতমানের হলার না থাকায় চালের গুনগত মান ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। তাই জেলায় উন্নতমানের মিল তৈরির উদ্যোগ গ্রহন করছে দক্ষিন দিনাজপুর জেলা কৃ্ষি দপ্তর, বলে জানান বালুরঘাট সহ কৃ্ষি আধিকারিক পার্থ মুখ্যার্জী। তিনি বলেন এবার বাসমতীর বদলে দক্ষিন ২৪ পরগণার বিখ্যাত ধান দুধের সর ধান চাষ পরীক্ষামুলক ভাবে করা হচ্ছে, যা পুরোটাই জৈব্য প্রযুক্তিকে ব্যাবহার করে বলে জানান তিনি।

মগরায় রুই-কাতলার মতো পুকুরে ইলিশ চাষ

১৫ই জুন, কলকাতাঃ  পুকুরে ইলিশ মাছ! তাও আবার হয় নাকি? এমনটাই ঘটেছে এই রাজ্যে। কলকাতা থেকে মাত্র দু’ঘন্টার দূরত্বে হুগলি জেলার মগরায় প্রায় ৫৯একর জমিতে রুই,কাতলা, চিংড়ির সঙ্গে একসঙ্গে বড় হচ্ছে নোনা জলের ইলিশ। একেকটির বয়স আঠারো মাস।ওজন প্রায় পাঁচশো গ্রাম।

 

মগরার বাসিন্দা চন্ডীচরণ চট্টোপাধ্যায়ের রয়েছে প্রায় ৫৯ একরের একটি হ্যাচারি। সেই হ্যাচারিতেই ডিম ফুটিয়ে চারা থেকে বড় করা হয়েছে ইলিশ মাছ। রাজ্যের প্রথম সারির কয়েকজন ইলিশ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সটান মগরা হাজির রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। জাল ফেলে তোলা হল পুকুরে জন্মানো ইলিশ মাছ। হাতে নিয়ে একরকম বিস্মিত মন্ত্রী। বলেছেন, “সোনার পাথরবাটির কথা গল্প শুনেছি। এ তো তাকেও হার মানালো। মিষ্টি জলে যে ইলিশ মাছ বড় হতে পারে তা এই প্রথম দেখলাম।” দপ্তর সূত্রে খবর, এই বর্ষার আগে এই হ্যাচারিতে ডিম ফুটে প্রায় দশ লক্ষ ইলিশ মাছের চারা হয়েছে। দপ্তর সূত্রে খবর, রাজ্যের দুই জায়গায় গঙ্গার মোহনায় এই চারা ইলিশ ফেলা হবে। প্রাথমিকভাবে, ঠিক হয়েছে ডায়মন্ডহারবার ও খড়গপুরের কাছে গঙ্গায় ইলিশ ছাড়া হবে। আগামী ১০ জুলাই মৎস্যমন্ত্রী ইলিশ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ডায়মন্ড হারবার যাবেন ইলিশ ফেলতে। রাজ্যের ইলিশ বিষজ্ঞদের বক্তব্য, গঙ্গায় যেহেতু জোয়ার-ভাটা হয়, তাই ইলিশের ওজনও দ্রুত বাড়ে। গঙ্গায় আঠারো মাসে একটি ইলিশের ওজন হয় প্রায় এক কেজির কাছাকাছি। এই হ্যাচারিতে ইলিশের ওজন পাঁচশো গ্রাম।

কি করে এমন ঘটনা হল? জানতে গেলে পিছিয়ে যেতে হবে অন্তত তিন বছর। ২০১৬ সালের জুলাই মাসের এক দুপুরে মগরার চন্ডীবাবু হাজির হলেন সল্টলেকের মীন ভবনে। মৎস্য দপ্তরের আধিকারিকদের জানালেন তাঁর প্রস্তাবের কথা। শুনে প্রথমটায় কেউ তেমন গুরুত্ব দেননি। তবে কথাটা কানে আসতেই চন্ডীবাবুকে নিজের ঘরে ডেকে নেন চন্দ্রনাথ সিনহা। সব শুনে সরকারি সাহায্যর প্রতিশ্রুতি দেন। আর ফিরে তাকাতে হয়নি চন্ডীবাবুকে। সরকারি সাহায্য আর অদম্য সাহস নিয়ে পুকুরের মিষ্টি জলেই নোনা ইলিশ করে দেখিয়েছেন। যার স্বাদ, গন্ধ হুবহু ইলিশ। থুড়ি রুপালি শস্য। চন্ডীবাবুর কথায়, “ইলিশ উৎপাদনে স্বাবলম্বী হতে হবে। সেই থেকে জেদ চেপেছিল। আজ আমি সত্যিই খুশি।”

জেলায় ফুল ও ফল চাষ বাড়াতে কৃষকদের নিয়ে প্রশিক্ষন শিবির করছে দক্ষিন দিনাজপুর জেলা উদ্যান পালন দপ্তর

৩রা মে, হিলিঃ দক্ষিন দিনাজপুর জেলা মুলত কৃ্ষি প্রধান জেলা হলেও এই জেলায় বিকল্প কৃ্ষি ব্যাবস্থা, বিশেষ বাগিচা ফসলের সেই ভাবে কোন উন্নতি হয়নি। জেলার সব্জী চাষের পরিমান অনেকটাই বেশী হলেও ফুল ও ফল চাষের বিকাশ সেইভাবে হয়নি। হিলি দক্ষিন দিনাজপুর জেলার সব থেকে উন্নত প্রাচীন পলি মাটি এলাকা, কিন্তু ধান, পাট, সরষে চাষ ছাড়াও কিম্বা কিছু প্রথাগত সব্জী চাষ হয়ে থাকে এই এলাকায়। কিন্তু প্রচুর সম্ভাবনা থাকা সত্তে্ও ফুল ও ফল চাষ সেইভাবে বৃ্দ্ধি পাইনি হিলি এলাকায়। তাই এবার সেই ফুল ও ফল চাষ বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিলো দক্ষিন দিনাজপুর জেলা উদ্যান পালন দপ্তর। হিলির ফেরুসা কালিবাড়ি এলাকার ইসমাইলপুরে সোমবার থেকে শুরু হলো ছয় সপ্তাহের কৃ্ষি প্রশিক্ষন শিবির। যেখানে এই এলাকার কৃ্ষকদের বর্ষা কালিন গাঁদা ফুল ও আনারস চাষের বিষয়ে এই প্রশিক্ষন চলবে প্রতি সোমবার করে আগামী ছয় সপ্তাহ। প্রশিক্ষিত চাষিদের প্রশিক্ষন শেষে ফুল ও ফল চাষের নানা উপকরন থেকে বেশকিছু আর্থিক সাহায্য করবে জেলা উদ্যান পালন দপ্তর, এমনটাই বলেন জেলা উদ্যান পালন আধিকারিক সমরেন্দ্র নাথ খাঁরা। তিনি জানান এই জেলায় ফুল ও নানাবিধ ফল চাষের সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু সঠিক ভাবে এই জেলায় ফুল ও ফল চাষ বাস্তবায়ন হয়নি। তাই জেলা উদ্যান পালন দপ্তর এই জেলায় ফুল ও নানা রকম ফল চাষ করা যায় তার জন্য উদ্যোগ গ্রহন করা হচ্ছে। বিশেষ করে এই জেলায় গাঁদা ফুল থেকে আনারস, নানা রকমের লেবু, মসুম্বির মতো একাধিক ফল চাষ করতে চাষিদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকরা বোরো ধানের দাম না পাওয়ায় ক্ষোভ দক্ষিন দিনাজপুর জেলায়, ধিরে ধিরে বাড়ছে ধানের দাম

৩রা মে, বালুরঘাটঃ এবার দক্ষিন দিনাজপুর জেলায় ৭৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে, যেখানে গতবারের থেকেও ধানের উৎপাদন বাড়লেও কৃষকরা বোরো ধানের দাম না পাওয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে দক্ষিন দিনাজপুর জেলায়। শুরুতে ধানের দাম তলানিতে থাকায় মাথায় হাত কৃ্ষকদের, কাঁচা ধানের দাম শুরুতে মোন প্রতি ২৫০ টাকা হলেও বর্তমানে এই ধানের দাম কিছুটা বৃ্দ্ধি পেয়েছে। এবার জেলায় বোরো চাষের সঙ্গে যুক্ত ছিলো প্রায় ৫০ হাজার কৃ্ষক যেখানে তাদের প্রতি হেক্টর জমিতে ধান চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। জেলার এক কৃ্ষক শ্যামল মন্ডল আমাদের জানান যেভাবে সারের দাম বাড়ছে শুধু নয় ক্রমেই বাড়ছে সেচের খরচ থেকে লেবার খরচ। কিন্তু ধানের দাম এতো তলানিতে থাকায় কৃ্ষকদের অবস্থা ক্রমেই করুন হচ্ছে জেলায়। গতবছর জেলায় বর্ষালি ধানের দাম মোন প্রতি ৩৫০ টাকা ছিলো যা স্বাভাবিক বাজার থেকেও ১০০ টাকা কম। পাশাপাশি এবারেও খরালি ধানের উৎপাদন বেশি হলেও দাম নেই বলেই চলে, শুরুতে ধানের দাম মোন প্রতি ২৫০ টাকা হলেও এখন কাঁচা ধানের বাজার কিছুটা বেড়েছে, পাশাপাশি শুকনো ধানের দাম মোন প্রতি ৩৮০ টাকা হলেও সেই দাম ৪০০ টাকার উপরে উঠলে চাষীরা কিছুটা হলে লাভের মুখ দেখবে। তিনি বলেন যে ভাবে সারের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে, শ্রমিক খরচ বেড়েছে, বেড়েছে সেচের খরচ, তাতে এই দাম কোন ভাবেই লাভের মুখ দেখছে না তারা। জেলা কৃ্ষি অধিকর্তা জ্যোতির্ময় বিশ্বাস আমাদের জানান এবার জেলায় ব্যাপক ফলন হয়েছে, কিন্তু ধানের দাম সেইভাবে না পাওয়ায় কৃ্ষকরা লাভের মুখ সেইভাবে দেখতে পাচ্ছেনা। তবে আগামীতে ধানের দাম বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি। জেলা খাদ্য নিয়ামক অমরেন্দ্র রায় আমাদের জানান জেলায় এবার নির্ধারিত পরিমান ধান কেনা সম্পূর্ণ হয়ে গেছে, যার পরিমান ৫০ হাজার মেট্রিকটন থেকে বেড়ে ৫৬ হাজার মেট্রিকটন। তবে জেলার কৃ্ষাণ মান্ডি গুলোতে ধান কেনার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি, ধান কেনা চলছে জেলার প্রতিটি কৃ্ষান মান্ডিতেই। তবে বোরো ধান কেনার প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি, ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার স্পেশিফিকেশন অনুযায়ী ধানের অনুমোদন মেলে তবে এই ধান কেনা শুরু করবে খাদ্য দপ্তর। যার সহায়ক মূল্য ১৭৫০ টাকা ধার্য্য হয়েছে, যদি কৃ্ষাণমান্ডিতে ধান আনে কৃ্ষকরা তবে সেই দাম ১৭৭০ টাকা পাবে তারা।

শিলিগুড়িকে টেক্কা দিয়ে বাজারে আসছে দক্ষিন দিনাজপুর জেলার আলিপুরের আনারস, আকার ও স্বাদে সবাইকে টেক্কা দেবে জেলার আনারস

৩রা জুন, বালুরঘাটঃ দক্ষিন দিনাজপুর জেলায় ক্রমেই বাড়ছে আনারস চাষ, গত বছর বালুরঘাটের চিঙ্গিশপুরের আলিপুরের গোপাল পাহানের মতো বেশ কয়েকজন আনারস চাষী তাক লাগিয়েছিলো সারা জেলায়। এইখানে উৎপাদিত আনারসের স্বাদ যেমন ছিলো মিষ্টি, তেমন ছিলো আকার, যা রীতি মতো হার মানিয়ে ছিলো শিলিগুরির চোপরার আনারসকে। আর এই সাফল্যের পরেই এবার জেলায় ব্যাপক ভাবে আনারস চাষে চাষিদের উৎসাহিত করতে ময়দানে নামলো দক্ষিন দিনাজপুর জেলা উদ্দ্যান পালন দপ্তর। দপ্তরের পক্ষ থেকে জানা যায় এবার জেলায় শুধু চিঙ্গিসপুর নয়, জেলায় আনারস চাষ বাড়াতে উৎপাদন করা হচ্ছে কুমারগঞ্জ, গঙ্গারামপুর ও হরিরামপুরের মোট ৪০ বিঘা জমিতে, যেখান থেকে প্রায় ১৭২ মেট্রিকটন আনারস উৎপাদন হবার সম্ভাবনা। জেলা উদ্দ্যান পালন আধিকারিক সমরেন্দ্র নাথ খাঁড়া আমাদের জানান গতবার জেলায় পরীক্ষামুলক ভাবে আনারস চাষ শুরু হয়েছিলো বালুরঘাট ব্লকের চিঙ্গিশপুরের আলিপুরে। মাত্র দুই থেকে তিনজন চাষীকে নিয়ে এই চাষ জেলায় শুরু হলে শুরুতেই আসে সাফল্য। যা বালুরঘাটের পাইকারি বাজারে চাষিরা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা পিস বিক্রি করে শুধু নয় আলিপুরের আনারসের আলাদা একটা বাজার তৈরি হয়।

এবার তাই সেই চাষকে আরো কিছুটা উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগি হয়েছে জেলা উদ্যান পালন দপ্তর। যার ফলে বর্তমানে জেলায় ১০জন কৃ্ষক প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে আনারস চাষ করছে। তিনি বলেন এবারের যা আবহাওয়া তাতে উপযুক্ত রোদ ও বৃষ্টির কারনে এবার গতবারের থেকেও ফলন বেশী হবে। বালুরঘাট বাসি মনোজিৎ দাস আমাদের জানান গতবার বালুরঘাটের বাজার থেকে এই আনারস সে পঞ্চাশ টাকায় কিনেছিলো। প্রথমে একটু ভয় থাকলেও খাবার পরে তিনি অবাক হয়ে যান আলিপুরের আনারস খেয়ে। আকারেও বড় বিধাননগর চোপরার আনারস থেকে, তেমন তার স্বাদ ও মিষ্টি। তিনি বলেন দক্ষিন দিনাজপুর জেলায় এমন আনারস চাষ দেখে তিনি মনে করেন এই জেলায় এই চাষের বেশ সম্ভাবনা রয়েছে। জেলা উদ্দ্যান পালন দপ্তর সুত্রে জানা যায় সম্ভবত জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকেই দেখা মিলবে এই আনারসের। এবার যা উৎপাদন হয়েছে তাতে জেলার প্রায় সর্বত্রই জেলাবাসি এই আনারস খেতে পারবে।