করোনার করুণায় কোন পথে দেশ, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে নিরাশ দেশবাসী

২৫শে মার্চ, কলকাতাঃ করোনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশ্যে ভাষনে সকলে আশা দেখেছিল যে, প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে করোনা সংকট থেকে কিছু রেহাই দেবে, সঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছে আর্থিক সংকটের মুখে পড়া পরিস্থিতি থেকে বের করবার পথ দেখাবে এবং সারাদেশে হাসপাতাল ও তার পরিকাঠামো উন্নয়ন এর বিষয়ে পথ দেখাবে। কিন্তু সবকিছুকে পিছনে ফেলে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে দিল 21 দিনের কারফিউ, যা থেকে অর্থনৈতিক অচলাবস্থার মুখে পড়তে হলো দেশের 130 কোটি মানুষকে। সারাদেশে করোনা কিট ও ওষুধের বদলে মিলল ঘর থেকে না বেরোনোর দাওয়াই। এত বড় আর্থিক বিপর্যয় প্রধানমন্ত্রী মাত্র 15000 কোটি টাকার যে আর্থিক প্যাকেজের কথা ঘোষণা করলেন, তা এতবড় সংকটের মুখে শুধুমাত্র নরসির সমান। যাা থেকে সাধারণ মানুষ ভালোই বুঝতে পেরেছে দেশের আর্থিক ভান্ডারের পরিস্থিতি ও দেশের ভবিষ্যতের অবস্থা আগামী  দিন কোথায় দাঁড়িয়ে।

ভারতবর্ষের 130 কোটি মানুষের কাছে আগামী দিন যে চরম ভয়াবহ হতে চলেছে তা একপ্রকার স্পষ্ট হয়েছে এ দিনের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। করোনা মোকাবেলায় যখন চিন রাতারাতি হাসপাতাল তৈরি করেছে,  তখন ভারতবর্ষের মানুষের কাছে করোনা মোকাবেলায় মিলল 21 দিনের লকডাউন। প্রতিদিন সাধারণ মানুষ দেশের আর্থিক রাজস্বে যে বিপুল পরিমাণ ট্যাক্সের বোঝা বহন করছে, সেইসব অর্থ চলে যাচ্ছে দেশের রাজনৈতিক নেতাদের স্বাচ্ছন্দ ও শিল্পপতিদের আর্থিক প্যাকেজে আর সাধারণ মানুষের কপালে মিলছে কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রীর শুকনো ভাষণ। দেশের শিল্পপতিরা ব্যাংক থেকে দেশের রাজস্ব খাজানার আর্থিক সুবিধা নিয়ে একের পর এক ব্যাঙ্ক দেউলিয়া ও অর্থ ভান্ডার শূন্য করছে, তারপরে দেশবাসীর কপালে এর থেকে বেশী আর কিবা বেশি জুটতে পারে?

বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বেহাল পরিস্থিতির পাশাপাশি নোট বাতিল থেকে জিএসটির ফলে দেশের আর্থিক মন্দা যখন দেশের অর্থনীতিকে ক্রমেই পঙ্গু অবস্থায় পরিণত করেছে তখন করোনার মতো ভয়াবহ মহামারী দেশের আর্থিক অবস্থার এমন অবনতি তৈরি করবে সেটাই স্বাভাবিক। যা দেশের মানুষকে পূরণ করতে ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে অাগামি দিনে। দেশের এই অর্থনৈতিক দুরবস্থা থেকে উঠবার জন্য দেশের সব মানুষকে একজোট হয়ে এগিয়ে আসা ছাড়া দ্বিতীয় বিকল্প পথ আর আছে বলে মনে করছে না অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। দেশে কৃষি ও মানব সম্পদ এখন হতে পারে দেশের এই চরম অর্থনৈতিক দুরবস্থা থেকে দেশকে উদ্ধার করার একমাত্র চাবিকাঠি। যা দেশের উৎপাদন ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করতে এই দুটি মাধ্যমকেই হাতিয়ার করতে হবে দেশের সরকারকে। ইতিমধ্যে সারা বিশ্বেই করোনা পরিস্থিতিতে বেহাল অর্থনৈতিক দুরবস্থার শিকার বিশ্বের তাবড় তাবড় দেশদের, যেখানে বাদ যায়নি আমেরিকা, জার্মান, ইতালি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্সের মত দেশ দেশের নাম। এ মতো পরিস্থিতিতে ভারতের সস্তায় মানব সম্পদ হতে পারে এই দেশের আর্থিক মন্দা থেকে ঘুরে দাঁড়াবার বিকল্প পথ। পাশাপাশি দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ভারতবর্ষের আর্থিক উন্নতির আরেকটি চাবিকাঠি। ফলে দেশের মানুষকে কর্মহীন পরিস্থিতি থেকে বের করে নিয়ে আসতে এছাড়া দ্বিতীয় বিকল্প পথ এই মুহূর্তে তৈরি হওয়া যথেষ্ট কঠিন বলে মনে করছে অর্থনীতিবিদরা।

রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন বাড়াল রাজ্য সরকার

১৬ অক্টোবর, কলকাতাঃ পুজোর মুখে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন আড়াই গুণ বাড়াল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার নবান্ন থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হল।
নবান্নের তরফে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়ে দেওয়া হল, ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বেসিক পেনশন যা ছিল, তা ২.৫৭ গুণ বেড়ে যাবে । এতদিন যাঁরা ৩৩০২ টাকা বেসিক পেনশন পেতেন তাঁরা এবার থেকে পাবেন ৮৫০০ টাকা। ৬৪৩২ টাকা পেনশন যারা পেতেন তাঁরা পাবেন ১৬৫৪০ টাকা। আবার যাদের ১১,০০০ টাকা পেনশন ছিল তাঁরা পাবেন ২৮২৭০ টাকা।

এছাড়াও ৮০ থেকে ৮৫ বছরের মধ্যে পেনশনভোগীরা পাবেন ২০ শতাংশ অতিরিক্ত টাকা। ৮৫ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে যাদের বয়স তাঁরা পাবেন ৩০ শতাংশ অতিরিক্ত পেনশন। ৯৫ থেকে ১০০ বছর বয়সীরা পাবেন ৪০ শতাংশ অতিরিক্ত পেনশন। ১০০ বছরের ওপরে বয়স হলে অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ পেনশন পাবেন সেই পেনশনভোগী। তৃতীয়ায় নবান্নের এই ঘোষণায় স্বাভাবিক ভাবেই খুশি রাজ্যের পেনশনভোগীরা

বিশ্বব্যাঙ্কের দাবী ভারতে নোটবন্দি, জিএসটির ফলে আর্থিক বৃদ্ধির হার নামতে পারে ৬ শতাংশে

১৩ই অক্টোবর, কলকাতাঃ গোটা বিশ্ব তো বটেই, বিশেষ করে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি নিয়ে আশঙ্কার কথা শুনিয়েছিল আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার বা আইএমএফ। সেই আশঙ্কা আরও উস্কে দিয়েছিল মুডি’জ ইনভেস্টর সার্ভিসের সমীক্ষা। কিছু দিনের ব্যবধানে, সেই একই সুর শোনা গেল বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্টেও। ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার আরও নামবে বলে আগাম সতর্কবার্তা শুনিয়ে রাখল ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক।

রবিবার, সাউথ এশিয়া ইকনমিক ফোকাসে বিশ্বব্যাঙ্ক জানিয়েছে, ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার দ্রুত নামছে। ২০১৮-১৯ সালে যে বৃদ্ধির হার ৬.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল, এ বার তা এক ঝটকায় নেমে আসতে পারে ৬ শতাংশে। ২০২১ সালে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার ৬.৯ শতাংশ হতে পারে এবং ২০২২ সালে তা ৭.২ শতাংশে তা পৌঁছতে পারে বলে মনে করা হয়েছিল। মনে করা হয়েছিল, ভারতের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা বাজারে যথেষ্ট গতি আনবে আর তার ফলে বাজার বেশ খানিকটা নমনীয় হয়ে উঠবে। কিন্তু, তা হচ্ছে না বলেই মনে করছে বিশ্বব্যাঙ্ক।

অবশ্য এই প্রথম নয়, ২০১৭-১৮ সালে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার ছিল ৭.২ শতাংশ। কিন্তু, গত বছর ওই হার নেমে এসেছিল ৬.৮ শতাংশে। ফলে, এই নিয়ে পর পর দু’বছর ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার নিম্নমুখী থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অথচ, আর্থিক বৃদ্ধির হার যে নিম্নগামী তা বোঝা গিয়েছিল ২০১৯-২০ সালের প্রথম তিন মাসেই। বাজারে চাহিদার ঘাটতির ফলে শিল্পক্ষেত্র এবং পরিষেবা ক্ষেত্র দুর্বল হতে শুরু করে। অর্থনীতির নিম্নগতি ও খাদ্যশস্যের ক্রয়মূ্ল্য কম থাকায় মুদ্রাস্ফীতি ২০১৯-২০ সালে ৩.৪ শতাংশে ও ২০১৯-২০ সালের প্রথমার্ধে ৪ শতাংশের মধ্যেই বাঁধা ছিল। তার ফলে অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বাধীনতা পেয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। নিরপেক্ষ নীতি থেকে কিছুটা সরে এসে রাশ আলগা করতে পেরেছিল তারা। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রেপো রেট ১৩৫ বেসিস পয়েন্ট কমাতে পেরেছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।

কিন্তু, নানা কারণে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে নতুন নতুন দাওয়াইয়ের কথা এ বার ভাবতে হচ্ছে আরবিআই-কে। গত বারের থেকে চলতি খাতে ঘাটতি বেড়ে জিডিপির ২.১ শতাংশে এসে পৌঁছেছে, তাও জানিয়েছে বিশ্বব্যাঙ্ক। এমন পরিস্থিতি যে বাজারের ভারসাম্য নষ্ট করছে সেই আশঙ্কার কথাও শুনিয়েছে তারা। কারণ হিসাবে, ভারতের বাজার থেকে পুঁজি বেরিয়ে যাওয়া এবং প্রাথমিক ভাবে ডলারের তুলনায় টাকার দাম অনেকটা পড়ে যাওয়ার মতো ঘটনাকেই মাইলস্টোন ধরা হচ্ছে। সেইসঙ্গে,  ২০১১-১২ থেকে ২০১৫-১৬ সালের নিরিখে দারিদ্র দূরীকরণের গতিও অনেকটা মন্থর হয়েছে বলেও জানিয়েছে বিশ্বব্যাঙ্ক।

কী কারণে ভারতীয় অর্থনীতির এমন অধোগতি? কারণ হিসাবে নোটবন্দি ও জিএসটি-র মতো বড়সড় অর্থনৈতিক সংস্কারকেই দায়ী ঠাউরেছে বিশ্বব্যাঙ্ক। এই দুই সংস্কারের জেরে বাজার যথেষ্ট ধাক্কা খেয়েছে বলেই জানাচ্ছে বিশ্বব্যাঙ্ক। তা ছাড়া, ধুঁকতে থাকা গ্রামীণ অর্থনীতি ও বিপুল বেকারত্বও অর্থনীতির ভার আরও বাড়িয়েছে। তার ফলেই আর্থিক  উন্নয়নের গতি অনেকটা শ্লথ হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা না হলে বা ঘরোয়া চাহিদা না বাড়লে বাজার কুঁকড়ে থাকবে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক ওই সংস্থাটি। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের কর্পোরেট কর ছা়ড়ের সিদ্ধান্তের ফলে কিছুটা লাভ মিলতে পারে বলে বিশ্বব্যাঙ্কের ওই রিপোর্টে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত যে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের দুর্বলতাই তুলে ধরছে তাও বলা হয়েছে রিপোর্টে।

আইএমএফ, মুডি’জের পর বিশ্বব্যাঙ্ক। একের পর এক আন্তর্জাতিক সংস্থার রিপোর্ট ও সমীক্ষায় ভারতের অর্থনীতি নিয়ে আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। দেশের অর্থনীতি যে বেশ ধাক্কা খেয়েছে সেই সতর্কবার্তাই তুলে ধরছে ওই সংস্থাগুলি।

দেশে এই প্রথম পাইলট হলেন কোনও আদিবাসী তরুণী অনুপ্রিয়া

১০ই সেপ্টেম্বর, কলকাতাঃ  তাঁর নিকটাত্মীয়দের সকলে হয়তো এখনও প্লেনে চড়ারও সুযোগ পাননি। কিন্তু তিনি সুযোগ পেলেন প্লেন ওড়ানোর! ওড়িশার মাওবাদী-অধ্যুষিত এলাকা মালকানগিরির এক আদিবাসী তরুণীর সাফল্য যেন আকাশ ছুঁয়েছে আক্ষরিক অর্থেই। ২৭ বছরের অনুপ্রিয়া মধুমিতা লাকরা যে কেবল বাণিজ্যিক প্লেনের পাইলট হলেন না তা-ই নয়, এই প্রথম গোটা সম্প্রদায়ের জন্য এক ইতিহাস লিখলেন যেন। যে প্রত্যন্তের সর্বত্র এখনও পৌঁছয়নি রেল লাইন, সেই প্রান্ত থেকেই এবার আকাশে পাড়ি দেবেন তিনি।

অনুপ্রিয়ার এই সাফল্যে আনন্দ যেন বাঁধ মানছে না লাকরা পরিবারে। পুলিশ কনস্টেবল মারিনিয়াস লাকরার মেয়ে অনুপ্রিয়া ছোট থেকেই চেয়েছিলেন পাইলট হতে। কিন্তু তাঁর পরিবারের সকলেই জানতেন, এটা তাঁদের মেয়ের স্বপ্ন। এমন একটা স্বপ্ন, যেটা তাঁদের মতো বাড়ি থেকে পূরণ করা অসম্ভব। তাঁরা কল্পনা করতে পারেননি, এই স্বপ্নকেই লক্ষ্য বানিয়ে, তা পূরণ করেই ছাড়বেন অনুপ্রিয়া।

সব ঠিক থাকলে এই মাসেই ইনডিগো এয়ারলাইন্সের কো-পাইলট হিসেবে নিযুক্ত হবেন অনুপ্রিয়া।

বাবা মারিনিয়াস বলছিলেন, “পাইলট হওয়ার জন্য যে প্রশিক্ষণ নিতে হয়, তার খরচ জোগানো আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমি ধার করেছিলাম,আত্মীয়দের থেকেও সাহায্য নিয়েছিলাম। মেয়েকে বলেছিলাম, যতটা পড়াশোনা করতে হয়, তা-ই যেনও করে।”

মালকানগিরির ভিতরের দিকে, একটি ভাঙাচোরা পুরনো বাড়িতে থাকে লাকরা পরিবার। সংসারে অভাবের ছাপ স্পষ্ট। অনুপ্রিয়ার মা জিমাজ লাকরা জানালেন, শত কষ্টেও মেয়েকে কখনও বাধা দেননি তাঁরা। বললেন, “আমাদের মেয়ে যা হতে চেয়েছিল, তা-ই হতে পেরেছে। আমরা এতেই খুব খুশি। ওর এত বড় স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, তার সামনে আমাদের সব দুঃখ কষ্ট ফিকে হয়ে গেছে। আমি চাই,আমাদের মেয়ে সকলের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক। আমি চাই সব বাবা-মায়েরা তাঁদের মেয়ের পাশে থাকুন।”

অনুপ্রিয়ার এই সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক। লিখেছেন, “আমি ওর সাফল্যে খুব খুশি। ও বহু মেয়ের আদর্শ হয়ে উঠতে পারে।” দেখুন সেই টুইট।

ওড়িশা আদিবাসী কল্যাণ মহাসঙ্ঘের সভাপতি এবং আদিবাসী নেতা নিরঞ্জন বিসি জানিয়েছেন, ওঁরাও গোষ্ঠীর মেয়ে অনুপ্রিয়া এই প্রথম প্লেন ওড়ানোর অনুমতি পেয়েছেন। শুধু মালকানগিরি নয়, গোটা ওড়িশার কোনও আদিবাসী মেয়ে এই সাফল্য পায়নি এখনও। তিনি বলেন, “যে রাজ্যের সর্বত্র এখনও রেললাইন পরিষেবা পৌঁছয়নি, সে রাজ্যের আদি জনজাতির প্রতিনিধি হিসেবে এই সুযোগ পাওয়া বিরল বৈ কী!”

মালকানগিরির অনুপ্রিয়া স্থানীয় একটি মিশনারি স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন। তার পরে পড়াশোনা শেষ করতে চলে যান কোরাপুট। ২০১২ সালে ভুবনেশ্বরের সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হন তিনি। কিন্তু কয়েক মাস ক্লাস করার পরেই ঠিক করেন, পাইলট হওয়ার জন্যই প্রস্তুত করবেন নিজেকে। কলেজ ছেড়ে দিয়ে ভর্তি হন সরকারি অ্যাভিয়েশন ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে। ধার করে প্রশিক্ষণের টাকা জোগাড় করেন অনুপ্রিয়ার বাবা।

সাত বছরের দীর্ঘ প্রশিক্ষণ ও একাধিক পরীক্ষার পরে, বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থায় সাক্ষাৎকার দেওয়ার পরে, অবশেষে অনুমোদন পান প্লেন ওড়ানোর। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে বারবার হতাশা এলেও, কখনও ভেঙে পড়েননি অনুপ্রিয়া। কোনও বাধাকেই বাধা বলে মনে করেননি। তাই তো আজ উজ্জ্বল করেছেন সারা রাজ্যের মুখ।

বাংলা এবং ওডিশা উপকূলে নতুন করে গভীর একটি ঘুর্ণাবর্ত

২৬শে আগষ্ট, কলকাতাঃ কালো মেঘে ঢাকল আকাশ। দিনে দুপুরে অন্ধকার নেমে আসল শহর কলকাতায়। আর তার কিছুক্ষণের মধ্যেই মুষলধারে বৃষ্টি নামল শহর কলকাতায়। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় মুষলধারে এই বৃষ্টিপাত শুরু হয়। যার জেরে কলকাতার একাধিক জায়গা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। যার ফলে শহরের বেশ কিছু জায়গায় তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

 

আলিপুর হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, আগামী ২৪ ঘন্টায় কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলাতে বৃষ্টি হতে পারে। কিছু জায়গায় বজ্র বিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি হতে পারে বলে খবর। বাংলা এবং ওডিশা উপকূলে নতুন করে একটি ঘুর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। যার ফলে উপকূল সংলগ্ন জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে, বৃষ্টি হতে পারে উত্তরবঙ্গের জেলা গুলোতেও বলে জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

এই ঘূর্ণাবর্তের জেরে সমুদ্র উত্তাল হতে পারে। আর সে কারণে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যারা এই মুহূর্তে সমুদ্র উপকূলে রয়েছেন তাঁদেরকে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় ফিরে আসার জন্যে হাওয়া অফিসের তরফে জানানো হয়েছে।

চালু হয় গেল চার বছরের B.A. B.Ed. / B.Sc. B.Ed. এর ইন্টিগ্রেটেড কোর্স, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের

১৮ই আগষ্ট, কলকাতাঃ চার বছরের B.A. B.Ed. / B.Sc. B.Ed. এর ইন্টিগ্রেটেড কোর্স শুরু করার বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল অনেক আগেই। এবার সেই কোর্স চালু করতে চলেছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই মর্মে বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে।

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত ৭ টি কলেজে শুরু হচ্ছে এই ৪ বছরের ইন্টিগ্রেটেড B.A (B.ED)/B.SC ( B.ED) কোর্স। ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে চলতি মাসের ১৯ তারিখ থেকে এবং চলবে ০১/০৯/২০১৯ পর্যন্ত। ভর্তি প্রক্রিয়া চলবে অনলাইনে।

আবেদন ফি:

আবেদনকারীকে ৩০০ টাকার আবেদন ফি জমা করতে হবে। আবেদন ফি ক্রেডিট কার্ড / ডেবিট কার্ড / নেট ব্যাংকিং / এলাহাবাদ ব্যাংক ই-চালানের মাধ্যমে দেওয়া যাবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা:

বিজ্ঞান, কলা বিভাগ (ভোকেশনাল কোর্স বাদে)নিয়ে ৫০% নম্বর বা সমমানের গ্রেড সহ উচ্চমাধ্যমিক বা +২ পরীক্ষায় পাশ করা প্রার্থীরা আবেদনের জন্য যোগ্য। এসসি, এসটি এবং PWD প্রার্থীরা ৫% নম্বরের ছাড় পাবেন।

কোর্স ফি:

এই কোর্সের জন্য ফি ধার্য করা হয়েছে প্রতি বছর ৫০,০০০ টাকা। এর সঙ্গে প্রার্থীর কেবল এনরোলমেন্ট ফি এবং সেন্টার ফি দিতে হবে।

বিষয়:

যে বিষয়গুলোতে এই কোর্সটি করা যাবে, সেগুলো হল- বাংলা, ইংরেজি, ভূগোল, ইতিহাস, গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, প্রাণিবিদ্যা এবং উদ্ভিদবিদ্যা।

বাছাই পদ্ধতি:

প্রার্থী বাছাই হবে উচ্চ মাধ্যমিক বা + ২ পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের শতাংশের উপর। দুজনের নম্বর সমান হলে মাধ্যমিকের প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে।

কলেজের নাম:

বিষয় ভিত্তিক শূন্যপদ: 

এসএসসি’র বকেয়া নিয়োগ জুনের মধ্যেই, জুলাইতে ফের নতুন বিজ্ঞপ্তি!

২৯শে মে, দিনাজপুর ডেইলি ডেস্কঃ লোকসভা নির্বাচনের ফলেই স্পষ্ট এরাজ্যে তৃণমূল সরকারের ওপর পুঞ্জীভূত হয়েছে অসন্তুষ্টি। তাই ২০২১ সালের আগে সেই ক্ষত সারিয়ে ফেলতে একের পর এক ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার যেমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল এসএসসি-র নিয়োগ নিয়ে। মঙ্গলবার এসএসসি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তারপরই শিক্ষামন্ত্রী জানিয়ে দেন, ‘SSC-র পরীক্ষার বকেয়া নিয়োগ জুনের মধ্যে শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছি। ফের নতুন করে নিয়োগ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি SSC কর্তৃপক্ষ জারি করবে সম্ভবত জুলাইতেই।’ এমনকী নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে যে সমস্ত মামলা চলছে, সেগুলিও যাতে দ্রুত সমাধান হতে পারে, সে বিষয়েও আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। উল্লেখ্য, তৃণমূল জমানায় এসএসসি নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে আগে। এমনকী দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ ও চাকরি না পাওয়ার ক্ষোভে বহু চাকরিপ্রার্থী মেয়ো রোডে টানা প্রায় ১ মাস অনশন করেন। শেষে মুখ্যমন্ত্রীর মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে ওঠে অনশন। ভোট মিটলেই এসএসসি নিয়ে সদর্থক পদক্ষেপের কথা আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, ভোট মিটতেই তার বাস্তবায়ণ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল।

মাধ্যমিকে প্রথম দশে কারা, প্রথম পূর্ব মেদিনীপুর, পাশের হার ৮৬.০৭ শতাংশ

২১শে মে, দিনাজপুর ডেইলি ডেস্কঃ প্রকাশিত হল পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল। সাফল্যের হার সবচেয়ে বেশি পূর্ব মেদিনীপুরে। কলকাতা দ্বিতীয় স্থানে। তৃতীয় স্থানে পশ্চিম মেদিনীপুর।

মোট পরীক্ষার্থী- ১০ লক্ষ ৫০ হাজার ৩৯৭ জন।

পাশের হার ৮৬.০৭%

প্রথম- সৌগত দাস (পূর্ব মেদিনীপুর) মহম্মদপুর দেশপ্রাণ বিদ্যাপীঠ প্রাপ্ত নম্বর – ৬৯৪

দ্বিতীয়- শ্রেয়শী পাল (আলিপুরদুয়ার) দেবস্মিতা সাহা – প্রাপ্ত নম্বর- ৬৯১

তৃতীয়- ক্যামেলিয়া রায় , ব্রতীন মণ্ডল (নদীয়া)৬৮৯ প্রাপ্ত নম্বর

চতুর্থ- অরিত্র সাহা (আলিপুরদুয়ার বড়বিষা হাইস্কুল)- ৬৮৭ প্রাপ্ত নম্বর

পঞ্চম- সুকল্প দে- (হুগলি কলেজিয়েট স্কুল ), রুমনা সুলতানা (৬৮৬) কান্দি গার্লস হাইস্কুল – ৬৮৬ প্রাপ্ত নম্বর

ষষ্ঠ- সোহম দে – গোঘাট হাইস্কুল , সাবর্ণী চ্যাটার্জী (রামপুরহাট), সাহিত্যিকা ঘোষ (বর্ধমান বিদ্যার্থী), সুপর্ণা সাহু (রাজজনারায়ণ বালিকা বিদ্যালয়), অঙ্কন চক্রবর্তী (হাওড়া)- ৬৮৫ প্রাপ্ত নম্বর

সপ্তম- গায়ত্রী মোদক- (কোচবিহার ইলাদেবী গার্লস হাইস্কুল), অনীক চক্রবর্তী (ঘাটাল), সপ্তর্শী দত্ত (নদীয়া)- ৬৮৪- প্রাপ্ত নম্বর

অষ্টম- সাহানওয়াজ আলম (কোচবিহার), সায়ন্তন বসাক (গঙ্গারামপুর), অর্কপ্রভ সাহানা (বাঁকুড়া), কৌশিক সাঁতরা (বাঁকুড়া), সুদীপ্তা ধবল (বাঁকুড়া), সায়ন্তন দত্ত (বাঁকুড়া জেলা স্কুল), পৃথ্বীশ কর্মকার (বাঁকুড়া), দেবলীনা দাস (আরামবাগ গার্লস হাইস্কুল), অয়ন্তিকা মাঝি (বর্ধমান বিদ্যার্থী), পুস্কর ঘোষ (বর্ধমান, কাটোয়া কাশীরাম দাস ইনস্টিটিউশন), সেমন্তী চক্রবর্তী (আমতলা নিবেদিতা বালিকা বিদ্যালয়, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা) সবার প্রাপ্ত নম্বর- ৬৮৩

নবম- জয়েশ রায় (আলিপুরদুয়ার) সৌগত পাণ্ডা, শুভদ্বীপ কুণ্ডু (বাঁকুড়া)-, সৌকর্য বিশ্বাস (বীরভূম), প্রত্যুষ করণ (কাঁথি), অরুণীমা ত্রিপাঠী (পূর্ব মেদিনীপুর) অভিনন্দন জানা

দশম- সোম্যজিত দত্ত, অরিত্র মাহারা, সৌম্যজিত ঘোষ, সায়ন্তিকা রায়, শুভজিত মাঝি (ঝাড়গ্রাম), সায়নি রায়, দেবমাল্য সাহা, প্রত্যাশা মজুমদার (বিরাটি বিদ্যালয়), অঙ্কিতা কুণ্ডু (উত্তর ২৪ পরগণা), সোহম দাস (যাদবপুর বিদ্যাপীঠ)

রাজ্য ‘তৃণমূল আর পুলিশের সঙ্গে লড়তে ৮ ফুটের ডান্ডা নিয়ে আসবেন,’ রাকেশের ভিডিয়ো ঘিরে বিতর্ক

১৫ই মে, দিনাজপুর ডেইলি ডেস্কঃ এখানেই থামেননি রাকেশ সিংহ নামে ওই বিজেপি নেতা। রীতিমতো হুমকির সুরে বলতে শোনা যায়, “যদি প্রয়োজন হয় ঝামেলা করতে হবে। কিন্তু র‌্যালিতে আসতে হবেই। ফাটাফাটি গ্রুপের যে সকল ভাই-বন্ধুরা রয়েছেন অবশ্যই কাল আপনারা আসবেন। আট ফুটের ডান্ডা নিয়ে আসবেন। তৃণমূলের গুন্ডা ও পুলিশবাহিনীর সঙ্গে লড়তে হবে।” নিচে ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন 

বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে পদযাত্রায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

অমিত শাহের রোড শোয়ে তুমুল গন্ডগোল এবং বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে পদযাত্রায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেলেঘাটা থেকে শুরু হয়েছে পদযাত্রা। শেষ হবে শ্যামবাজারে। নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচি হিসেবে মমতার পদযাত্রা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার জেরে সেই পদযাত্রাই প্রতিবাদ মিছিলে রূপান্তরিত হয়েছে। মিছিলে রয়েছেন বিদ্বজ্জনদের একটা বড় অংশ। দেখা গিয়েছে চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন, কবি সুবোধ সরকার, কবি জয় গোষ্মামী, অভিনেত্রী জুন মাল্য, পরিচালক অরিন্দম শীল-সহ বিশিষ্টজনরা। এইদিন একি ভাবে ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল ও প্রতিবাদে নানা ধরনের কর্মসূচী গ্রহন করেন বিভিন্ন জেলার তৃণমূল নেতৃত্বরা। একি ভাবে বালুরঘাটে দেখা যায় বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচী গ্রহন করতে। বালুরঘাটের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর শঙ্কর দত্তের ব্যাবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ কর্মসূচী। এছাড়াও জেলার অন্যান্য প্রান্তেও গতকালকের ঘটনার প্রতিবাদে র‍্যালির আয়োজন করা হয়।

https://www.facebook.com/MamataBanerjeeOfficial/videos/361513294493981/

 

মূর্তি কে ভাঙল, ভিডিয়ো দেখিয়ে প্রমাণের চেষ্টা ডেরেক-পার্থর

১৫ই মে, দিনাজপুর ডেইলি ডেস্কঃ বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য। কারা মূর্তি ভাঙল, তাই নিয়ে চলছে রাজনৈতিক চাপান উতোর। তৃণমূলের অভিযোগ, আমিত শাহের রোড শো কলেজে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েছে বিজেপি সমর্থকরা।  বিজেপি নেতৃত্বের পাল্টা অভিযোগ, নিজেরাই মূর্তি ভেঙে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে তৃণমূল। এই তরজার মধ্যেই একাধিক ভিডিয়ো শেয়ার করে বিজেপির বিরুদ্ধেই মূর্তি ভাঙার প্রমাণ দিতে চেয়েছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন। পরে সাংবাদিক বৈঠকেও একাধিক ভিডিয়ো দেখিয়ে তাণ্ডবের দায় বিজেপির ঘাড়ে চাপিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ। অন্য দিকে কলকাতাতেও একই কায়দায় ভিডিয়ো চালিয়ে কার্যত আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন, এই তাণ্ডবকারীরা বিজেপি সমর্থক।

মঙ্গলবার বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের রোড শো ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিদ্যাসাগর কলেজ চত্বরে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অমিত শাহকে কালো পতাকা দেখানো ঘিরে এক দফা উত্তেজনা হয়। তার পর বিদ্যাসাগর কলেজে কার্যত রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়। রোড শো শেষে দেখা যায়, বিদ্যাসাগর কলেজের ভিতরে থাকা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ ছাড়া বাইক এবং সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ভিডিয়োও সংবাদ মাধ্যমে দেখা গিয়েছে।

কিন্তু ওই ঘটনার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা। রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে মূর্তি ভাঙার নিন্দা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও ঘটনাস্থলে গিয়ে নিন্দা করেন। এই মূর্তি ভাঙারও একাধিক ভিডিয়ো রয়েছে ডেরেকের টুইটার হ্যান্ডলে। তবে সেগুলি নিজে পোস্ট করেননি, অধিকাংশই রিটুইট করেছেন।

বুধবার এই ঘটনার একাধিক ভিডিয়ো নিজে শেয়ার করেছেন ডেরেক ওব্রায়েন। একটি ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, এক দল লোক একটি বাইকে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। কিছুক্ষণ পরেই দেখা যাচ্ছে দাউদাউ করে জ্বলে উঠছে আগুন। এক দল লোক তার চারপাশে তাণ্ডব চালানোর চেষ্টা করছে।

কিন্তু ওই ঘটনার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা। রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে মূর্তি ভাঙার নিন্দা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও ঘটনাস্থলে গিয়ে নিন্দা করেন। এই মূর্তি ভাঙারও একাধিক ভিডিয়ো রয়েছে ডেরেকের টুইটার হ্যান্ডলে। তবে সেগুলি নিজে পোস্ট করেননি, অধিকাংশই রিটুইট করেছেন।

বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনায় অমিত শাহের বিরুদ্ধে এফআইআর, ভয় পাই না, পাল্টা অমিতের

১৫ই মে, দিনাজপুর ডেইলি ডেস্কঃ বিদ্যাসাগর কলেজে গতকালের তাণ্ডবের ঘটনায় অমিত শাহের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করলো কলকাতা পুলিশ। পাশাপাশি গতকাল রাত থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ৫৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও বেশ কয়েক জনের খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে জানা গিয়েছে কলকাতা পুলিশ সূত্রে। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করা নিয়ে পাল্টা তোপ দেগেছেন অমিতও। সাংবাদিক বৈঠক করে অমিত বলেছেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। আমরা ভয় পাই না। মমতা চাইলে নিরপেক্ষ সংস্থাকে দিয়ে এই ঘটনার তদন্ত করতে পারেন।’’

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সঙ্ঘর্ষ এবং বিদ্যাসাগর কলেজের তাণ্ডবের ঘটনায় জোড়াসাঁকো থানা এবং আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। বিদ্যাসাগর কলেজের এক পড়ুয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে অমিত শাহ সহ রোড শোতে উপস্থিত বিজেপি শীর্ষনেতৃত্ব এবং অজ্ঞাতপরিচয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় আর্মহার্স্ট স্ট্রিট থানায়। অন্য দিকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের ধস্তাধস্তি এবং দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এফআইআর করে জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ। পাশাপাশি মঙ্গলবার দুপুরে লেনিন সরণিতে রোড শোয়ের প্রস্তুতি চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে কমিশন।

বিদ্যাসাগর কলেজের তাণ্ডবের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়ে গিয়েছে, গতকাল রাতেই জানিয়েছিলেন পুলিশ কমিশনার রাজেশ কুমার। একই সঙ্গে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল গ্রেফতার করা হয়েছে ১৬ জন হাঙ্গামাকারীকে। এখনও পর্যন্ত সেই গ্রেফতারি সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮। আরও বেশ কয়েক জনের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে কলকাতা পুলিশ সূত্রে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ৫৮ জনকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি বিজেপির মাঝারি মাপের বেশ কয়েক জন নেতাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিজেপির দিল্লি শাখার মুখপাত্র তাজিন্দার পাল সিংহ বাগ্গাও। তাঁকে নিউ মার্কেট থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা যাচ্ছে পুলিশ সূত্রে।

গত কাল বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের রোড শো ঘিরে সংঘর্ষের মধ্যেই বিদ্যাসাগর কলেজে ঢুকে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ ওঠে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। শুধু বিদ্যাসাগরের মূর্তিই নয়, কলেজের গেট, আসবাব ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি পুরো এলাকা তছনছ করার জন্যও অভিযুক্ত বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা।

গতকাল রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছে। আগুন জ্বালানো হয়েছে। এটা ওঁর ২০০ বছর। কোনও রাজনৈতিক দলের এ-রকম হাঙ্গামা কখনও দেখিনি। বিহার-রাজস্থান থেকে গুন্ডা এনে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। নিন্দার ভাষা নেই। আমি লজ্জিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী। বাংলার মানুষ হয়ে আমরা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে সম্মান দিতে পারি না বিজেপির গুন্ডাদের জন্য।’’বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, শাহের রোড শোয়ে ইট ছুড়ে আক্রমণ চালিয়ে প্রথমে গোলমাল বাধিয়েছে তৃণমূলই। এমনকি রোড শো শুরুর আগেই পোস্টার-ফেস্টুন খুলে দিয়ে প্ররোচনা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছিল শাসক দল।

বিদ্যাসাগর কলেজে ঢুকে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছে বিভিন্ন মহল। ঘটনার নিন্দা করে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কবি শঙ্খ ঘোষ, সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, নকশাল নেতা অসীম চট্টোপাধ্যায়, এবং নেতাজি পরিবারের সদস্যা এবং প্রাক্তন সাংসদ কৃষ্ণা বসু সহ আরও অনেকে।

আজ ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নামার ডাক দিয়েছে বাম দলগুলি, তৃণমূল কংগ্রেস, বুদ্ধিজীবীদের একাংশসহ আরও অনেকেই।

23 মে নয় চূড়ান্ত ফল নাও হতে পারে, হয়ে যেতে পারে ২৪শে মে

১৩ই মে, দিনাজপুর ডেইলি ডেস্কঃ নির্বাচন কমিশনের তরফে ঘোষণা করা হয়েছিল 23 মে হবে লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা । গত 10 মার্চ নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সময় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা ঘোষণা করেছিলেন 23 মে ফল ঘোষণার কথা । কিন্তু, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সঞ্জয় বসু জানিয়ে দিলেন 23 মে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা যাবে না । চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হতে লেগে যাবে 24 মে।

প্রথমে ঠিক ছিল প্রতি বিধানসভা পিছু একটি VVPAT-এ গণনা করা হবে । কিন্তু, বিরোধীদের দাবি ছিল গণনা করতে হবে অন্তত 50 শতাংশ VVPAT । বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয় । সূত্রের খবর, তখন নির্বাচন কমিশনের তরফে আদালতে বলা হয় যে সেক্ষেত্রে ফল ঘোষণা করতে লেগে যাবে চার-পাঁচ দিন। পরে সুপ্রিম কোর্ট সুপারিশ করে বিধানসভা পিছু 5 টা করে VVPAT গণনা করা হবে । সেই সূত্রেই এবার ভোট গণনায় সময় বেশি লাগবে বলে জানাল কমিশন ।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবার প্রতি রাউন্ডে EVM, VVPAT, ETPBS গণনা হওয়ার পর, সেটির সমস্ত ক্যালকুলেশন শেষ করে তাতে সই করবেন অবজ়ারভার ও রিটার্নিং অফিসার । তারপরই গণনা কেন্দ্রে আনা যাবে পরের রাউন্ডের VVPAT মেশিন। এবার কমিশনের তরফে এই নিয়মের কথা বলা হয়েছে । আজ সঞ্জয় বসু বলেন, “গণনা করতে লেগে যাবে অনেকটাই । চূড়ান্ত ফল আসতে পরের দিনও লেগে যেতে পারে ।”

ওড়িশার পুরীতে তান্ডবে ফনী, এবার বাংলার দিকে এগচ্ছে

৩রা মে, দিনাজপুর ডেইলি ডেস্কঃ প্রচণ্ড হাওয়া, সঙ্গে তুমুল বৃষ্টি। একটার পর একটা গাছ উপড়ে পড়ে যাচ্ছে। উড়ে যাচ্ছে ঘরের চাল। ফণীর তাণ্ডবে রীতিমতো লন্ডভন্ড ওড়িশা। সকাল ৯টা নাগাদ ওড়িশার পুরীতে আছড়ে পড়ে ফণী। আছড়ে পড়ার সময় তার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৯৫ কিলোমিটার। তার পর থেকেই ওড়িশার উপকূলবর্তী অঞ্চলে তাণ্ডব দেখাতে শুরু করেছে ফণী।

পুরী, কটক, ভুবনেশ্বর, বালাসোর, চাঁদিপুর, গোপালপুরের মতো এলাকাগুলোতে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে আবহবিদেরা। ইতিমধ্যে দু’জনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গিয়েছে। এই এলাকাগুলো সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট জনশূন্য।

• ঝড়ের দাপটে বহু গাছ উপড়ে গিয়েছে ওড়িশায়। বিদ্যৎহীন ওড়িশার বিভিন্ন অঞ্চল। লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে উপকূলবর্তী বহু গ্রাম। জল জমে গিয়েছে, ভেঙে গিয়েছে বহু ঘর।

• পুরীর সাক্ষীগোপালে গাছ পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির। মৃত্যু হয়েছে ওড়িশার কেন্দ্রাপাড়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু এক প্রৌঢ়ার।

• পশ্চিমবঙ্গের জারি হয়েছে চূড়ান্ত সতর্কতা।

• পুরীর জগন্নাথ মন্দির সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎহীন ওড়িশার পুরী, গোপালপুর-সব বিভিন্ন এলাকা।

• ফণীর গতিপথে ওড়িশার ১০ হাজার গ্রাম এবং ৫২টা শহর পড়বে।।

• ফণীর যাত্রাপথ থেকে ১১ লক্ষ মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে ওড়িশা সরকার।

• পুরীতে ফণী আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের দিঘা, মন্দারমণি-সহ উপকূলবর্তী অঞ্চলে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হয়েছে তুমুল ঝড়বৃষ্টি। শঙ্করপুরে ভেঙে পড়ল হাইটেনশন বিদ্যুতের খুঁটি। ঘটনাস্থলে স্থানীয় বিধায়ক।

•  কলকাতা বিমানবন্দর আজ বিকেল ৩টে থেকে কাল সকাল ৮টা পর্যন্ত বিমান চলাচল বন্ধ থাকছে। এর আগে বলা হয়েছিল আজ রাত সাড়ে ৯টা থেকে আগামী কাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ভুবনেশ্বরেও বন্ধ বিমান পরিষেবা।

• সকাল সাড়ে ১০টা। কলকাতা, মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি.

• বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য ৪ হাজার ৮৫২ সাইক্লোন এবং বন্যা আশ্রয় গড়ে তোলা হয়েছে। আপাতত, ওই ১১ লক্ষ মানুষের ঠাঁই এই আশ্রয়গুলোই।

• কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব কন্ট্রোল রুম খুলেছেন। ফণী নিয়ে খবরাখবর বা যে কোনও সাহায্যের জন্য হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩৮-এ ফোন করতে পারেন।

• শনিবার পর্যন্ত বাতিল করে দেওয়া হয়েছে মোট ১৪৭টি ট্রেন।

• ৩৪টি বিপর্যয় মোকাবিলা দল, ত্রাণ সামগ্রী-সহ চারটি উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশাখাপত্তনম এবং চেন্নাইয়ে। বিশাখাপত্তনম, চেন্নাই, পারাদ্বীপ, গোপালপুর এবং পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া, ফ্রেজারগঞ্জ এবং কলকাতায় বিপর্যয় মোকাবিলা দল মোতায়েন থাকছে।

•  জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার-এর হিসেব অনুযায়ী গত ২০ বছরে এই অঞ্চলের সব চেয়ে ভয়ঙ্কর সামুদ্রিক ঝড়ে পরিণত হয়েছে ফণী। এর আগে ১৯৯৯-এ এই মাত্রায় পৌঁছনো সুপার সাইক্লোনে প্রায় ১০ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিলেন, ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বিপুল।

• দিঘা থেকে পর্যটকদের ফেরাতে এসবিএসটিসি অতিরিক্ত ৫০টি বাসের ব্যবস্থা করেছে।

 

মহিলা কমিশনে বৈশাখী, দুলাল-রত্নার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে নামল পুলিশ

৩রা মে, দিনাজপুর ডেইলি ডেস্কঃ নতুন মোড় শোভন-রত্না টানাপড়েনে। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশকে চিঠি পাঠাল জাতীয় মহিলা কমিশন। চিঠি পাওয়ার পরে শোভনের শ্বশুর তথা তৃণমূল বিধায়ক দুলাল দাসের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করল কলকাতা পুলিশ। বৈশাখীর বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছে ইতিমধ্যেই।

কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সম্পর্কের টানাপড়েনের দায় কলেজ শিক্ষিকা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে চাপিয়েছিলেন মহেশতলার বিধায়ক তথা স্থানীয় পুরসভার চেয়ারম্যান দুলাল দাস। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কের কারণেই রত্নার সঙ্গে অশান্তি শোভনের— এমন অভিযোগ তুলে একাধিক বার সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন রত্নার বাবা দুলাল। তার প্রেক্ষিতেই জাতীয় মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়।

চলতি বছরের মার্চে জাতীয় মহিলা কমিশনকে চিঠি দিয়ে বৈশাখী অভিযোগ জানিয়েছিলেন। শোভন-রত্নার সম্পর্কের টানাপড়েনের কারণ হিসেবে তাঁর নামটাকে সামনে এনে  আসলে তাঁর চরিত্রহননের চেষ্টা হচ্ছে বলে তিনি সে চিঠিতে অভিযোগ করেছিলেন। তার আগে অবশ্য রত্না নিজেও বৈশাখীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন, তবে জাতীয় মহিলা কমিশনে নয়, রাজ্য মহিলা কমিশনে। তার প্রেক্ষিতে রাজ্য মহিলা কমিশন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল। সে চিঠির কথা জানতে পেরে শোভন নিজে সক্রিয় হন। রাজ্য মহিলা কমিশনকে চিঠি পাঠিয়ে শোভন জানান, তাঁর দাম্পত্য সংক্রান্ত সমস্যার সঙ্গে বৈশাখীর কোনও যোগ নেই। এ বিষয়ে বৈশাখীর কাছ থেকে জবাব তলব করা অনুচিত বলে শোভন জানান নিজের চিঠিতে। শোভনের এই চিঠিই দুলাল দাসের বিরুদ্ধে বৈশাখীর অন্যতম হাতিয়ার হয়। শোভন-রত্নার সম্পর্কের টানাপড়েনে তাঁর যে কোনও ভূমিকাই নেই, সে কথা শোভন চট্টোপাধ্যায় নিজে লিখিত ভাবে স্বীকার করা সত্ত্বেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তাঁর (বৈশাখীর) চরিত্র হনন করার চেষ্টা হয়েছে বলে বৈশাখী অভিযোগ জানান। দুলাল দাসের এই সব মন্তব্যে কর্মক্ষেত্রে এবং পারিবারিক জীবনে তাঁকে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে বৈশাখী অভিযোগ করেন। শুধু তিনি নন, তাঁর নাবালিকা কন্যা এবং তাঁর প্রবীণা মা-কেও এই পরিস্থিতির আঁচ সহ্য করতে হচ্ছে, এমনও অভিযোগ করেন কলেজ শিক্ষিকা।
জাতীয় মহিলা কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে বৈশাখী আরও জানিয়েছিলেন যে, রত্না তাঁকে খুন করার চক্রান্ত করেছেন। আলিপুর আদালত চত্বরে অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতী পাঠিয়ে বৈশাখীকে হুমকি দেওয়ার একটি অভিযোগও সামনে এসেছিল। প্রথমটির প্রেক্ষিতে পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছিলেন বৈশাখী নিজেই। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে শোভন চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন। সেই সব অভিযোগপত্রের প্রতিলিপিও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় মহিলা কমিশনকে পাঠিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তবে মহিলা কমিশনকে ঠিক কী কী নথি তিনি পাঠিয়েছেন, তা নিয়ে বৈশাখী সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে চাননি।
বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাবতীয় অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে কলকাতা পুলিশকে নির্দেশ দেয় মহিলা কমিশন। সেই চিঠি পেয়ে গত বৃহস্পতিবার কলকাতা পুলিশের এসিপি পদমর্যাদার এক আধিকারিক বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন বলে জানা গিয়েছে। কলকাতা পুলিশ ওই কলেজ শিক্ষিকার বয়ান তথা দুলাল দাসের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ বিশদে রেকর্ড করেছে। দুলাল দাস এবং রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বয়ানও রেকর্ড করার কথা পুলিশের। তবে সেই জিজ্ঞাসাবাদ এখনও হয়েছে কি না, তা নিয়ে কলকাতা পুলিশের তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

উদ্বেগ বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গের, উপকূল বরাবর এগচ্ছে ফণী, জারি চূড়ান্ত সতর্কতা

৩রা মে, দিনাজপুর ডেইলি ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের জন্য উদ্বেগ বাড়ালো ফণী! জারি হল চরম সতর্কতা। সূত্রের খবর, ওড়িশার স্থলভাগের গভীরে না গিয়ে ক্রমশ উপকূল বরাবর এ রাজ্যের দিকেই নাকি ধেয়ে আসছে অতি শক্তিশালী প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী। আর সে কারণেই উদ্বিগ্ন আবহবিদেরা।

উদ্বেগটা কী রকম?

আবহবিদ জে কে মুখোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, একটা ঘূর্ণিঝড় যখন কোথাও আছড়ে পড়ে বা তার ল্যান্ডফল হয়, অনেকটা অঞ্চল জুড়েই তার বিস্তৃতি থাকে। ঝড়ের কেন্দ্রকে বলা হয় ‘আই অফ দ্য স্টর্ম’। আর এই ‘আই অফ দ্য স্টর্ম’-কে কেন্দ্র ধরলে তার চারপাশে অনেকটা অঞ্চল জুড়ে তাণ্ডব চালায় ঘূর্ণিঝড়।

আবহবিদ জে কে মুখোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, একটা ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র যত স্থলভাগের গভীরে এগতে থাকে, ততই তার শক্তিক্ষয় হয়। আর এখানেই লুকিয়ে রয়েছে দুশ্চিন্তার কারণটা।

কারণ, সকাল ৮টা ৫০ মিনিট নাগাদ ওড়িশার উপকূলে স্থলভাগের উপরে ১৯৫ কিলোমিটার গতিবেগে ফণী আছড়ে পড়লেও, তার অভিমুখ স্থলভাগের গভীরের দিকে নয়। বরং উপকূল বরাবরই সে ক্রমশ পশ্চিমবঙ্গের দিয়ে এগিয়ে আসছে। এ ক্ষেত্রে যে হেতু তার বিস্তৃতির অনেকটা অংশ সমুদ্রের উপরেই রয়ে গিয়েছে, তাই পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছতে ফণী যতটা শক্তিক্ষয় করে ফেলবে মনে করেছিলেন আবহবিদেরা, তা হবে না। ১০০ কিলোমিটার বা তারও বেশি গতিতে এ রাজ্যে আঘাত হানতে পারে সে।

অভিমুখ বদলে ওড়িশার স্থলভাগের দিকে না এগিয়ে যদি উপকূল বরাবরই তা যদি এ রাজ্যে এসে পৌঁছয়, তা হলে দুই মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন আবহবিদেরা।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, সকাল সাড়ে ১০টায় কলকাতা থেকে ফণীর অবস্থান ছিল ৪১৮ কিলোমিটার দূরে। দিঘা থেকে ৩৬৪ কিলোমিটার। ইতিমধ্যেই ফণীর প্রভাবে পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং কলকাতায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।

এ দিন এ রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকায় হাওয়ার গতিবেগ প্রায় ৭০ থেকে ৮৫ কিলোমিটারের কাছাকাছি থাকবে, জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

উত্তরবঙ্গ বাদ নয়, দক্ষিণবঙ্গের ১৫ জেলায় তাণ্ডব চালাতে পারে ফণী, সতর্ক করল আবহাওয়া দফতর

৩রা মে, দিনাজপুর ডেইলি ডেস্কঃ অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা ঘুরে শুক্রবার গভীর রাতে অথবা শনিবার ভোরে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আছড়ে পড়তে চলেছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণী। উপকূলের জেলাগুলিতে সব থেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের ১৫ জেলায় তাণ্ডব চালাতে পারে ফণী। রেহাই নেই উত্তরবঙ্গেরও। রবিবার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শুক্রবার দুপুর নাগাদ ওড়িশা উপকূলে গোপালপুর-চাঁদবালির মাঝে ফণী আছড়ে পড়ার পরঘূর্ণিঝড় স্থলভাগের উপর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের দিকে এগোবে। আলিপুর হাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, ফণী এখন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগারে অবস্থান করছে।  কলকাতা থেকে ফণীর অবস্থান ৭৩০ কিলোমিটার দূরে। দিঘা থেকে ৬১৫ কিলোমিটার। এ রাজ্যে তাণ্ডব চালানোর পর বাংলাদেশে ঢুকবে ফণী।

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের পর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “৩ মে গভীর রাত অথবা ৪ তারিখ ভোরে আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড় ফণী। ৪ মে ফণীর প্রভাব থাকবেগাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে। উপকূলের দিকে গতিবেগ থাকবে ৯০ থেকে ১১৫ কিলোমিটারের মধ্যে। ৪ মে বিকেলের দিকে বাংলাদেশের দিকে ঢুকবে ফণী।”

আলিপুর আবহওয়া দফতর সূত্রে খবর, ফণীর প্রভাবে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই উপকূল এলাকায় বইবে ঝোড়ো হাওয়া। ৩ মে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৪ তারিখ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে। ওই দিন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও থাকছে সতর্কতা। ফণির প্রভাবে প্রবল ঝড়বৃষ্টি হবে দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, মুর্শিদাবাদ, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, দুই বর্ধমান, নদিয়াতে। দিঘা, মন্দারমণি, বকখালি, সাগরে বিশেষ নজরদারি করছে প্রশাসন।

হাওয়া অফিসের তরফে মৎসজীবীদের সমুদ্র যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সতর্ক করা হয়েছে পর্যটকদেরও। দিঘা, মন্দারমণি, ফ্রেজারগঞ্জ, বকখালি, সাগরে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ এবং প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সতর্ক বার্তা দেওয়া হচ্ছে সময়ে সময়ে। কলকাতায় হোর্ডিং ভেঙে, গাছ পড়ে বিপত্তি ঘটতে পারে। জলমগ্ন হতে পারে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা। নদীপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকেই। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ-ভারত, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে ১০০টির উপরে ট্রেন বাতিল হয়েছে।

ফণীর আশঙ্কায় বাতিল হল ৪৩টি দূরপাল্লার ট্রেন

২রা মে, দিনাজপুর ডেইলি ডেস্কঃ শুক্রবার ঘণ্টায় প্রায় ২০৫ কিলোমিটার বেগে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ওড়িশায় উপকূলে আছড়ে পড়তে চলেছে। কলকাতা থেকে ঘূর্ণিঝড় ফণী এখন প্রায় হাজার কিলোমিটার দূরে রয়েছে।

কিন্তু তার আগেই সতর্কতার কারণে এখনও পর্যন্ত দক্ষিণভারত, ওড়িশা এবং এ রাজ্যের মধ্যে প্রায় ৪৩টি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল হল। পরিস্থিতি বুঝে অন্যান্য ট্রেনের গতিপথ পরিবর্তন বা বাতিল করা হতে পারে।

দক্ষিণ-পূর্ব রেল সূত্রে খবর, হাওড়া-শিয়ালদহ এবং দক্ষিণভারত-ওড়িশার মধ্যে বাতিল হয়েছেহাওড়া-পুরী শতাব্দী এক্সপ্রেস, করমণ্ডল, হাওড়া যশবন্তপুর এক্সপ্রেস, ফলকনামা, হাওড়া-মাইসুরু, রৌরকেলা-ভূবনেশ্বর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। বাতিল হয়েছে, সাঁতরাগাছি-ম্যাঙ্গালুরু সেন্ট্রাল বিবেক এক্সপ্রেস, হাওড়া চেন্নাই মেল, সাঁতরাহাছি-চেন্নাই স্পেশ্যাল, খড়গপুর-ভিল্লাপুরাম এক্সপ্রেস, হাওড়া-ভূবনেশ্বর জনশতাব্দী, দুরন্ত, হামসফর, ধৌলি এক্সপ্রেস, সেকন্দরাবাদ-শালিমার উইকলি,  পুরী-হাওড়া শ্রীজগন্নাথ এক্সপ্রেস, হায়দরাবাদ-হাওড়া ইস্ট কোস্ট এক্সপ্রেস।
দক্ষিণ-পূর্ব রেলের পাশাপাশি পরিস্থিতির উপরে নজর রাখছে পূর্ব রেলও। প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানানো হয়েছে পূর্ব রেলের তরফে। ইস্ট-কোস্ট রেলের বিভিন্ন শাখাতেও ইতিমধ্যে বহু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। মৌসম ভবনের সতর্কতার পর রেলের বিভিন্ন বিভাগের জেনারেল ম্যানেজারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন রেল বোর্ডের কর্তারা। তার পরেই এই ট্রেনগুলি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফণী মোকাবিলায় তত্‍‌পর কলকাতা পুরসভা, ঘূর্ণিঝড়ের সময় কন্ট্রোলরুমে থাকবেন মেয়র

২রা মে, দিনাজপুর ডেইলি ডেস্কঃ ঘূর্ণিঝড় ফণীর ভয়ে আতঙ্কিত হবেন না। আপদকালীন পরিস্থিতির জন্য সবরকমভাবে প্রস্তুত রয়েছে সরকার ও কলকাতা পুরসভা। ফণী নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর এ কথা জানালেন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি জানিয়েছেন, ঝড়ের সময় তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন পুর ভবনের কন্ট্রোলরুমে।

বৃহস্পতিবার সেচ দফতর, বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর, সেচ দফতর-সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন ফিরহাদ হাকিম। বৈঠকের পর তিনি জানান, ইতমধ্যেই পুর ভবনের কন্ট্রোল রুমকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। শুক্রবার সাইক্লোনের সময়ে তিনি পুর ভবনের কন্ট্রোল রুমে হাজির থাকবেন। অফিসগুলিতে খাবার, পোশাক, ত্রিপল, পানীয় জলের বোতল-সহ ত্রাণসামগ্রী মজুত করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে লঙ্গরখানা খোলার ব্যবস্থাও থাকছে, আশ্রয় দেওয়ার জন্য স্কুল, অতিথি আবাস এবং কমিউনিটি হল প্রস্তুত রাখছে পুরসভা।

এ ছাড়াও শুক্রবারের মধ্যে শহরের সব হোর্ডিং বিজ্ঞাপনদাতাদের খুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুরসভা। দুর্বল বহুতলগুলির বাসিন্দাদের কাছাকাছি কোনও নিরাপদ স্থানে বা স্কুলে স্থানান্তরিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মেয়র। তিনি বলেছেন, মানুষকে সতর্ক থাকার জন্য মাইকিং-এর ব্যবস্থা করা হবে। শুক্রবার থেকেই সতর্ক থাকবে পাম্পিং স্টেশন। পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করা গয়েছে। বিভিন্ন স্কুল, আশ্রয়স্থল যেখানে মানুষ আশ্রয় নেবেন, সেখানে তিনদিন খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। সেচ দফতরকে বলা হয়েছে, লকগেটের বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।

ফণী মোকাবিলায় লালবাজারে খোলা হয়েছে বিশেষ কন্ট্রোলরুম। দুর্গত মানুষদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য তৈরি থাকতে কথা বলা হয়েছে হোটেল সংগঠনগুলির সঙ্গে। গাছ কাটার কর্মীদেরও তৈরি রাখা হয়েছে। ছুটি বাতিল হয়েছে পুরসভার কর্মীদের।